ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে নির্জন কারাগারে না রাখার নির্দেশ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে নির্জন কারাবাসে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কারাগারে তাদের কথিত বিচ্ছিন্ন করে রাখার বিরুদ্ধে করা আবেদন নিষ্পত্তি করে এ নির্দেশ দেন আদালত।
এদিন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসাইন সোমরু ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে কথিত নির্জন কারাবাসে রাখাকে অবৈধ ঘোষণা করার আবেদনগুলোর ওপর সংরক্ষিত রায় ঘোষণা করেন।
ইমরান খানের পক্ষে তার বোন আলিমা খান এবং বুশরা বিবির পক্ষে তার মেয়ে মুবাশশিরা খাওয়ার মানেকা আবেদন দুটি করেন।
২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তবে তিনি ও তার দল তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তিনি একাধিক আইনি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।
আজকের শুনানিতে আদালত আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে ইমরান খান ও বুশরা বিবি—দুজনকেই নির্জন কারাবাসে না রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন। তাদের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতেও কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আরও নির্দেশ দেন, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানকে কারাবিধি অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তার ছেলেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য টেলিফোন ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে।
আদালত আরও বলেন, তবে ইমরান খানের ছেলেদের সঙ্গে তার কথোপকথনের রেকর্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে টেলিফোন ব্যবহারের সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে।
ইসলামাবাদ হাইকোর্ট আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন ইমরান খানকে সংবাদপত্র ও বই সরবরাহ এবং কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, নুসরাত ভুট্টো মামলার রায় এবং বেগম শামীম আফ্রিদিকে নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন রায়ের আলোকে আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য।
আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
২৪ পৃষ্ঠার লিখিত রায়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসাইন সোমরু রাওয়ালপিন্ডির কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে ইমরান খানকে প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা হাঁটা ও শারীরিক ব্যায়ামের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ এবং যুক্তিসংগত নিরাপত্তাব্যবস্থা বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে।
কারা কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত বিরতিতে ইমরান খানের সঙ্গে তার ছেলেদের হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যমে অডিও ও ভিডিও যোগাযোগের ব্যবস্থা করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও উপযুক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, 'এই সুবিধা শুধুমাত্র পারিবারিক ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য।'
বলা হয়, কারাগারে থাকা পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানকে নিয়মিত সংবাদপত্র, সাময়িকী ও পড়ার সামগ্রীও সরবরাহ করতে হবে।
আরও বলা হয়, আদালতের সামনে উপস্থাপন করা এবং ইমরান খানকে দেওয়ার জন্য চাওয়া বইগুলো—' ইকবাল অ্যান্ড দ্য সেইজেস অব দ্য ইস্ট', 'প্রেয়ার অ্যাকর্ডিং টু সুন্নাহ', 'সায়েন্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশন ইন ইসলাম', 'দ্য রিকনস্ট্রাকশন অব রিলিজিয়াস থট ইন ইসলাম', 'প্রফেট মুহাম্মদ (সা.) অ্যাজ আ মিলিটারি কমান্ডার', 'সালাদিন', 'মিসকোটিং মুহাম্মদ' এবং 'দ্য নিউ স্টেট'—কারাগারের বইপত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্বাভাবিক নিরাপত্তা তল্লাশির পর বন্দিকে দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট গত ১৮ আগস্টের আদেশে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর হাইকোর্ট এ রায় দিলেন।
তবে তাকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (পিআইএমএস) নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারের ভাষ্য অনুযায়ী, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও পিআইএমএস-এ উপস্থিত ছিলেন।
পিটিআই ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়ে আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সরকারের সমালোচনা করে। তবে সরকার এ সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণেই তাকে পিআইএমএসে নেওয়া হয়েছিল।
