ইরানের ‘বর্বরদের’ সাথে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি সম্ভব নয়: নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের শাসনক্ষমতায় থাকা 'বর্বরদের' সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি করা সম্ভব নয়। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক চাপের কৌশলকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে ওয়াশিংটন সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের ব্যাপারে তিনটি সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছিলেন তিনি—কূটনীতি, সামরিক অভিযান ও তেহরানের ওপর 'অবরোধের' আরও আঁটসাঁট করা।
তিনি বলেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার কথা হয়। [ইরানের বিরুদ্ধে করণীয় হিসেবে] আমরা তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করি।'
নেতানিয়াহু আরও বলেন, তেহরানের সঙ্গে কোনো 'ভালো চুক্তি' করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের কাছে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার ভাষ্যমতে: 'আমি তাঁকে বলেছিলাম, একটা পুরোনো বিকল্প আছে। একটা চুক্তি করতে পারেন। ভালো চুক্তি হলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে ওখানকার ওই দলটার সঙ্গে, ওই বর্বরদের সঙ্গে আদৌ কোনো চুক্তি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমি আপনাকে নিশ্চিত করে বলছি: ওদের সঙ্গে কোনো চুক্তি হতেই পারে না।'
মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরের এক ইসরায়েলি বসতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেতানিয়াহু বলেন, 'আমি আপনাদের বলছি—কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয়।'
নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক চুক্তি নিয়ে সন্দিহান। ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মধ্যস্থতায় হওয়া পারমাণবিক চুক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। তবে ট্রাম্প যখন আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের চেষ্টা করছিলেন, তখন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করা থেকে সতর্কভাবে বিরত ছিলেন।
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নেতানিয়াহুর সাথে যোগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জনবিরোধিতা তৈরি হলে এপ্রিলে তিনি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হন।
বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত ইরানের অর্থনীতিকে গুঁড়িয়ে দিতে সোমবার 'অর্থনৈতিক ডি-ডে'র ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশলকে সমর্থন জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই 'তৃতীয় বিকল্পের' কথা তিনি ট্রাম্পকে বলেছিলেন। সেইসঙ্গে বিষয়টি 'খুব, খুব, খুব জোরালোভাবে' বাস্তবায়নের জন্য তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প শুধু ইরানকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেননি, বরং 'এই শাসনব্যবস্থাকে, এই ভয়ানক স্বৈরশাসনকে যারা সহায়তা করে, তাদের ওপরও অবরোধ কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচিত 'দ্বিতীয় বিকল্পটি সামরিক অভিযান' ছিল জানিয়ে নেতানিয়াহু যোগ করেন, ইরান হামলা চালালে আত্মরক্ষার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে ইসরায়েলের।
নেতানিয়াহুর হুঁশিয়ারি, "ইরানকে আমরা আমাদের ওপর হামলা চালানোর কোনো সুযোগ দেব না। আর যদি তারা আক্রমণ চালায়ও, তবে এমন এক বিধ্বংসী আঘাত ওদের সইতে হবে যা ওরা কল্পনাও করতে পারেনি—এখন পর্যন্ত ভোগ করা সমস্ত আঘাতের চেয়েও তা হবে বহুগুণ মারাত্মক।"
এরপরই ট্রাম্পের সামনে তৃতীয় বিকল্পটি তুলে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী—'ইরানের ওপর অবরোধ আরও জোরদার করা।' ট্রাম্পকে তিনি বলেছিলেন, 'সিদ্ধান্ত আপনার।'
ইসরায়েলি এই নেতা অনেক বছর ধরেই ইরানের ওপর মার্কিন হামলার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। অন্যদিকে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার পক্ষপাতী ট্রাম্প আরও আগে থেকেই। নিজের প্রথম মেয়াদেও ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসী 'সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ'-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা নীতি প্রয়োগ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
