হরমুজ প্রণালি ও রাজস্বের ভাগ নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান-ওমান: আইআরজিসি
ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের অংশীদারত্ব এবং এ থেকে পাওয়া রাজস্বের ভাগ নিয়ে চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) এক মুখপাত্র।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসির ওই মুখপাত্র জানান যে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র বাধাগ্রস্ত করেছে। এ কারণে আলোচনা বিলম্বিত হচ্ছিল।
আইআরজিসির মুখপাত্র বলেন, 'প্রায় এক মাস আগে আমরা ওমানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করি এবং এমন কিছু ফলাফলে পৌঁছেছি, যা উভয় পক্ষই গ্রহণ করেছে।'
তিনি বলেন, 'প্রণালির জলসীমায় দুই দেশের অংশ এবং সেখান থেকে পাওয়া রাজস্বে ইরান ও ওমানের ভাগ নিয়ে চুক্তি হয়েছে।'
এরআগে, গতকাল মঙ্গলবার তেহরানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় ইরান।
ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি এবং তার ইরানি সমকক্ষ আব্বাস আরাকচির মধ্যকার এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পর্যায়ক্রমে জাহাজ চলাচল চালু করার বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
দুই দেশের এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, এই প্রস্তাবিত কাঠামোর মধ্যে একটি 'যৌথ অস্থায়ী নৌ-করিডোর' তৈরি করা এবং এই জলপথে থাকা ল্যান্ডমাইনগুলো নিষ্ক্রিয় বা অপসারণে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে আরও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনার মাধ্যমে একটি 'স্থায়ী নৌ-করিডোর এবং প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন' নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, নৌ-চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে।
বৈঠক শেষে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, 'আমি আশাবাদী যে আমরা খুব শিগগরিই হরমুজ প্রণালিতে একটি অস্থায়ী নৌ-করিডোর চালুর ঘোষণা দিতে পারব।'
তিনি আরও জানান, দুই দেশ একটি স্থায়ী সমাধান এবং এই জলপথের ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক দায়িত্ব কার হাতে থাকবে—সে বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে, ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই অস্থায়ী রুটের ভৌগোলিক সীমানা স্পষ্ট করেছেন।
তিনি জানান, ওমান উপসাগর থেকে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করার রুটটি সম্পূর্ণভাবে ইরানের জলসীমার ওপর দিয়ে যাবে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার রুটটি ইরান এবং ওমান—উভয় দেশের জলসীমার ওপর দিয়ে যাবে।
ঘারিবাবাদী আরও বলেন, এই অস্থায়ী রুট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চূড়ান্ত করতে আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ আরও বেশ কয়েকটি বৈঠকে বসবে।
ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে—ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করলে তিনি ওমানেও বোমাবর্ষণ করবেন।
গত জুনে স্বাক্ষরিত ইউএস-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছিলেন, 'ওমান যদি আমাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমরা তাদের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণ করব।'
তবে ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই নতুন দ্বিপাক্ষিক রুট চুক্তিটি ট্রাম্প প্রশাসন শেষ পর্যন্ত মেনে নেবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
