‘আপাতত’ ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হবে: রুবিও
ইরানে আপাতত নতুন করে বড় ধরনের হামলা না চালিয়ে নিষেধাজ্ঞাসহ অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কয়েকটি মিত্র দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বলে সূত্রের বরাতে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
মার্কিন একজন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সুত্রের বরাত অনুযায়ী, রুবিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মিত্র দেশগুলোর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, 'আপাতত' ইরানে নতুন হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই। তবে ইরান আগে হামলা করলে পাল্টা হামলার সম্ভাবনা নাকচ করা হয়নি।
এর বদলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো হবে। এ জন্য মার্কিন নৌ অবরোধ এবং সম্প্রতি ঘোষিত নতুন নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালির বেশির ভাগ এলাকার মাইন অপসারণকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ইরানের একটি বড় হাতিয়ার অনেকটাই দুর্বল হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রণালির দক্ষিণ দিকের পথ দিয়ে ট্যাংকার চলাচলও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এর ফলে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব কমেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আরও বেশি তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
মার্কিন একজন কর্মকর্তা বলেন, 'ইরানিরা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এখন এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।'
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল বিক্রি থেকে আয় কমে যাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে প্রায় কোনো ট্যাংকার দেখা যায়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ইরানের অর্থনীতি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দেশটির সামরিক বাহিনীও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান সরকারের অবশিষ্ট আর্থিক আয়ের পথগুলোও বন্ধ করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, 'প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। এ লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এড়িয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর এই নীতি অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত চলতে পারে। তবে পরে নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়টি আবারও বিবেচনায় আসতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির রোববার তেহরানে ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সৌদি মালিকানাধীন টেলিভিশন আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান সফরের আগে মুনির ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইরানের জন্য একটি নতুন প্রস্তাবের কথা জানান। তবে হোয়াইট হাউস ট্রাম্প ও মুনিরের কথোপকথনের বিষয়টি অস্বীকার না করলেও বলেছে, বর্তমানে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বদলে যাওয়া এবং উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি বাড়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের একটি বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার দুর্বল হয়েছে।
মার্কিন একজন কর্মকর্তা বলেন, 'এখন আমরা ইরানের সঙ্গে আলোচনা করছি না। আমরা তাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছি। এই চাপ ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে।'
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডে গিয়ে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফিং নেওয়ার কথা রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
