ইরানে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্পের ‘মরিয়া অবস্থার’ ইঙ্গিত: বিশেষজ্ঞরা
তেহরানকে যুদ্ধ শেষ করার আলোচনায় বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ইরান এবং বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা একে একটি "অর্থনৈতিক ডি-ডে" অভিহিত করেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামকরণ করেছেন "অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট"।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারাবাহিক কিছু দাবির পরই এই ঘোষণা এসেছে, যেখানে তিনি হরমুজ প্রণালীর উপর থেকে ইরানের অধিকার বা দাবি ছেড়ে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের আলোচনায় ফিরে আসার মতো পদক্ষেপ নিতে ইরানি নেতাদের তাগিদ দিয়েছেন।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পার হতে চললেও, দেশটির বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের খুব একটা প্রভাব দেখতে পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত ফুরিয়ে আসছে এবং বিশ্বব্যাপী মার্কিন ক্ষমতা প্রক্ষেপণে ব্যবহৃত প্রধান সামরিক সরঞ্জামগুলো ইরানের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ট্রাম্প প্রশাসনকে শেষ পর্যন্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কিন্তু এগুলো দিয়ে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মানতে বাধ্য করার সম্ভাবনা কম।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি'-র সিনিয়র ফেলো নেগার মোর্তাজাভি আল জাজিরাকে বলেন, 'সামরিক বাহিনী তাদের প্রত্যাশিত দ্রুত বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবারও অর্থনৈতিক চাপের কৌশলে ফিরে আসছে। এই 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' ঘোষণার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে, ইরানকে আত্মসমর্পণ করাতে বা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে এই যুদ্ধ এ পর্যন্ত কতটা ব্যর্থ হয়েছে।'
কেন এই নতুন নিষেধাজ্ঞা?
ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল (এনআইএসি)-এর নীতি বিষয়ক পরিচালক রায়ান কস্টেলো বলেন, 'কাগজে-কলমে দেখলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের সামরিক শক্তির ব্যবধান বিশাল। যুক্তরাষ্ট্র তার বিপুল গোলাবারুদ দিয়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তবে ইরানও তার মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে কম ধ্বংস ঘটায়নি। তাই আজ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া এই যুদ্ধকে একটি ভয়াবহ ভুল ছাড়া অন্য কিছু হিসেবে বর্ণনা করা কঠিন।'
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাকে হত্যা করেছে, কিন্তু তেহরান নিজের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ড্রোন ও মিসাইলের বিশাল ভাণ্ডারকে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে। যেসব অঞ্চল এতদিন স্থিতিশীলতার আশ্বাস দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করত, সেই অঞ্চলের মূল তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে ইরান আঘাত হেনেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের আগের তুলনায় মার্কিনদের এখন পেট্রোল পাম্পে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ভিত্তিক কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট-এর প্রধান ত্রিতা পার্সি বলেন,'ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতেই একটি প্রাথমিক ভুল হিসাব করেছিলেন—তিনি ভেবেছিলেন যুদ্ধের হুমকি দিলেই ইরানিরা আত্মসমর্পণ করবে। কিন্তু ইরানিরা তা না করে উল্টো প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং অত্যন্ত কঠোরভাবে পাল্টা লড়াই চালায়।'
ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ'-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের (ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্র) মজুত অনেকটাই কমে গেছে। জুলাইয়ের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, পেন্টাগনের এই মজুত যুদ্ধের আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে অন্তত তিন বছর সময় লাগবে। যদিও হোয়াইট হাউস এ ধরনের কোনো ঘাটতির কথা অস্বীকার করেছে, কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন ঘাটতি সাময়িক হলেও সমস্যাটি বাস্তব। যে কারণে চীনকে টেক্কা দিতে ব্যবহৃত বিপুল সম্পদ ও সামরিক শক্তি সেখান থেকে সরাতে বাধ্য হয়েছে পেন্টাগন।
এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীও। পেন্টাগন চীন সংকট থেকে তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরিয়ে নিয়েছে; বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে জাপান থেকে উপসাগরে পাঠানো হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে সহায়তা ও স্থলাভিষিক্ত করতে—যাদের নৌসেনারা যুদ্ধের কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বহু মাস বেশি ধরে সমুদ্রে মোতায়েন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি প্রধান ঘাঁটি—যার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম ফ্লিটের সদর দপ্তরও অন্তর্ভুক্ত—ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজগুলোকে এখন রসদ সংগ্রহের জন্য ভারত মহাসাগরের দূরবর্তী দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের মতো জায়গার দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে, যা তাদের সরবরাহ লাইনকে আরও শত শত কিলোমিটার দীর্ঘ করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত ফোর-স্টার আর্মি জেনারেল ব্যারি আর ম্যাকক্যাফ্রে এক্স-এ লিখেছেন, 'আমার বিচারে, মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী সম্ভবত পারস্য উপসাগরের ১৫টি ঘাঁটিতে তাদের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারিয়েছে।'
'ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিল' (এনআইএসি)-এর প্রধান জামাল আবদি বলেন, 'আমার মনে হয় এটি পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই যুদ্ধের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সময় বা সুযোগ ফুরিয়ে এসেছে। তাই প্রশাসন এখন তাদের সবচেয়ে পরিচিত অথবা অতীতে যেগুলো কার্যকর বলে তারা মনে করত—সেই অর্থনৈতিক হাতিয়ারগুলোর দিকেই আবার মোড় ঘুরিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, এটি এই যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থায় ট্রাম্প প্রশাসনের ফিরে যাওয়ারই একটি কৌশল, কিন্তু তারা এটাকে প্রকাশ করছে নতুন ও বর্ধিত চাপের নীতি হিসেবে।'
'আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে যাব?'
বিশ্লেষকদের মতে, সোমবার ঘোষিত এই নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরান এবং তাদের সাথে বাণিজ্যে যুক্ত অন্যান্য পক্ষকে আঘাত করার বদলে এক ধরনের কঠোর সতর্কবার্তার চেয়ে বেশি কিছু হতে পারেনি। মার্কিন অর্থ বিভাগ অবশ্য বিশ্বজুড়ে ইরানের সাথে ব্যবসায় জড়িত ৬০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তবে এই তালিকায় চীন-সহ অন্যান্য দেশের প্রধান ব্যাংকগুলোকে রাখা হয়নি—যেগুলো তেহরানকে তেল বিক্রিতে সরাসরি সাহায্য করে থাকে।
ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির অন্তত ৯০ শতাংশই শেষ পর্যন্ত যায় চীনে, যা থেকে তেহরান প্রতি বছর কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব আয় করে। এই বিপুল বাণিজ্য বন্ধ করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের সাথে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতের পথে হাঁটতে হতো—যা করার মতো ইচ্ছে বা প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নেই।
বস্তুত, সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থ মন্ত্রী) স্কট বেসেন্ট সাংবাদিকদের কাছে ঠিক এই বিষয়টিই স্বীকার করেছেন, যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে দীর্ঘ দিন ধরে ইরানি তেল বাণিজ্যে সহায়তা দিয়ে আসা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কেন অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো না।
জবাবে বেসেন্ট প্রশ্ন ছুড়ে দেন, 'আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা ধ্বংস করতে যাব?'
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির সহকারী অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, 'আমার কাছে মনে হয়, এটি একটি প্রকৃত যুদ্ধের চেয়ে মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ বা লড়াই বেশি। এটি নিঃসন্দেহে কিছুটা প্রভাব ফেলবে, মানুষকে ভয় পাইয়ে দেবে এবং বাজারব্যবস্থায় অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করে ইরানের অর্থনীতিতে ধাক্কা দেবে... কিন্তু আমার মনে হয় না যে এটি শেষ পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদে ইরানি নীতি বা সামরিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তন আনবে।'
ইরানের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, কিন্তু ওয়াশিংটনের লাভ?
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন পদক্ষেপগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের অর্থনীতির বিরুদ্ধে থাকা আগের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞাগুলোর পরিধি আরও বড় করা। যার মধ্যে ডিজিটাল অ্যাসেট, সোনা, প্রযুক্তি, বিমান চলাচল এবং শিপিংয়ের মতো খাতগুলোর সাথে জড়িত অ-ইরানি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও "সেকেন্ডারি স্যাংশন" বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের সাথে এই চরম উত্তেজনার কারণে ইতিমধ্যেই সাধারণ ইরানিদের ওষুধের সংকট ও জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্যের মতো মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, নতুন করে যে খাতগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই ছিল আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়াতে সাধারণ ইরানিদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। যেমন—ইরানি মুদ্রা 'রিয়াল'-এর মান ক্রমাগত কমতে থাকায় সোনা তাদের সঞ্চয় সুরক্ষায় সাহায্য করত। ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল অ্যাসেট বা সম্পদ তাদের দেশের বাইরে থেকে স্বজনদের পাঠানো টাকা লেনদেনের সুযোগ দিত; আর বিমান সংস্থাগুলো তাদের বিদেশে থাকা স্বজনদের সাথে দেখা করা বা দেশের ভেতরের স্বজনদের খবর নেওয়ার সুবিধা দিত।
কোয়িন্সি ইনস্টিটিউটের ত্রিতা পার্সি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন যে, এসব নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরান সরকারের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে, তবে এগুলো সাধারণ ইরানিদের ওপর নিশ্চিতভাবেই আঘাত হানবে।
তিনি বলেন, 'আমার মনে হয় এগুলো সাধারণ ইরানিদের জন্য অত্যন্ত প্রভাব বিস্তারকারী এবং তীব্র বেদনাদায়ক হবে। তবে জনগণের এই ক্ষোভ ও ভোগান্তিকে সরকারের নীতি পরিবর্তনের দিকে চালিত করা পুরোপুরি ভিন্ন একটি বিষয়।'
তিনি উল্লেখ করেন যে, অর্থনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করলে তেহরান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, তা ট্রাম্প প্রশাসনের বহু আগে থেকেই জানা। ২০১৯ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প যখন ইরানের বিরুদ্ধে অনলাইনে বাকযুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে তেহরানকে কোনঠাসা করতে চেয়েছিলেন, তখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা পারস্য উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকার ও সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে আক্রমণ বাড়িয়ে জবাব দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেলে তারা নিশ্চিতভাবেই পাল্টাধাওয়া বা প্রতিশোধ নেবে।
পার্সি আরও বলেন, 'যদি এই নিষেধাজ্ঞাগুলোর মূল উদ্দেশ্য হয় ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা, তবে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়—ইরানিরা নতি স্বীকার করার চেয়ে সংঘাত আরও বাড়িয়ে দেওয়াকেই বেছে নেবে।'
'সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসি'-র নেগার মোর্তাজাভি বলেন, এই নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যবহারের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতে আমেরিকার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকেই আরও বেশি স্পষ্ট ও উন্মোচিত করে তুলবে।
তিনি বলেন, 'এই নিষেধাজ্ঞাগুলো সাধারণ ইরানিদের অর্থনৈতিক কষ্টকে আরও গভীর করবে। কিন্তু বছরের পর বছর চলা 'সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ' নীতি প্রমাণ করেছে যে, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন কখনোই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক আত্মসমর্পণে রূপ নেয় না। ওয়াশিংটন ইরানের জন্য ক্ষতির পাল্লা যতই ভারী করুক না কেন, তারা কিন্তু তেহরানকে নীতি পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারেনি।'
এদিকে, ইরানকে নতি স্বীকার করাতে এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এই যুদ্ধকে অপ্রিয় করে তোলেনি, বরং এটি ট্রাম্পের নিজের জনপ্রিয়তাকেও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
রয়টার্স/ইপসোস-এর একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন এবং প্রেসিডেন্টের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে অনুমোদন দিয়েছেন মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষ।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন নির্বাচন মাত্র কয়েক মাস দূরে থাকায়, ওয়াশিংটনের এই দুর্বল অবস্থান সম্পর্কে তেহরানের নীতি-নির্ধারকরা খুব ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল বলে মন্তব্য করেন জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনা আজোদি।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রের মিডটার্ম নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে ইরানিরা হিসেব কষছে, ট্রাম্প প্রশাসন আর নতুন করে সংঘাত বাড়াতে চাইবে না। তাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন তাদের সামনে কোনো ভালো প্রস্তাব না রাখা পর্যন্ত ইরান সম্ভবত এই কঠিন ঝড় সহ্য করে নেবে এবং ক্ষয়ক্ষতি সামলে নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করবে।'
