ভুয়া নিয়োগপত্রে চাকরি দিয়ে তিন মাস বেতন দেয় প্রতারক নিজেই, গ্রেপ্তার মূলহোতা
সরকারি অফিসের উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবি জানায়, মো. বাবলু কাজী (৬০) নামের ওই প্রতারক এক ভুক্তভোগীকে ভূমি অফিসে নিম্নপদে ভুয়া চাকরি দিয়ে নিজেই তিন মাস বেতন দেন। এভাবে আস্থা অর্জনের পর ওই ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এসব তথ্য জানান ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা মহানগরের পল্লবী থানার মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ডিবির ওয়ারী বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সিলযুক্ত ও জাল স্বাক্ষর করা ভুয়া নিয়োগ আদেশ, যোগদানপত্র, প্রজ্ঞাপন এবং নকল হাজিরা খাতা উদ্ধার করা হয়।
ডিবিপ্রধান আরও জানান, গ্রেপ্তার বাবলু কাজী ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে উপসচিবের স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে আসছিলেন। গত ২৫ জুন থেকে ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে ফরিদপুরের নগরকান্দা এলাকার ভুক্তভোগী মো. সবুজ সরকারের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার ভুয়া আশ্বাসে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্রটি অত্যন্ত চতুর ও সংঘবদ্ধ। তারা সাধারণ মানুষের সমাগম বেশি—এমন সরকারি অফিসগুলোকে লক্ষ্য করত। চক্রের একজন নিজেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং অন্যরা চালক বা অফিস সহকারী পরিচয় দিয়ে সরকারি অফিসে অবাধে চলাফেরা করত। ফলে চাকরিপ্রার্থীরা সহজেই তাদের বিশ্বাস করতেন।
বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা কোনো পরীক্ষা ছাড়াই চাকরি পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করত এবং বলত, 'চাকরিতে যোগদানের পর টাকা দিলেই হবে।'
ভুক্তভোগী সবুজ সরকারকে ভুয়া নিয়োগপত্র ও প্রজ্ঞাপন দেওয়ার পর ভূমি অফিসে বসার ব্যবস্থাও করে প্রতারক চক্রটি। এমনকি ভুয়া হাজিরা খাতায় সই করিয়ে প্রথম তিন মাস নিজেদের পকেট থেকে 'বেতন' হিসেবে কিছু টাকা দেওয়া হয়। পরে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে গা ঢাকা দেয়।
এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
