সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ‘দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের’ ইঙ্গিত: ইরান
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি এই অঞ্চলের দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে 'দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের' ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, 'এই অঞ্চলের দেশগুলো বুঝতে পেরেছে, নিরাপত্তা এমন কোনো পণ্য নয়, যা প্রতারক দালালদের কাছ থেকে কেনা যায়।'
তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী তিন দেশের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন।
বাঘাই বলেন, 'এই অঞ্চলের দেশগুলো অতীতের মতো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করতে পারছে না।'
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা চুক্তিটি তেহরানকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে বলে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের 'গভীর ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ক' রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাঁচ মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের পটভূমিতে শুক্রবার তিন দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এই যুদ্ধে আশপাশের দেশগুলোও জড়িয়ে পড়েছে এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার বলেছে, এই চুক্তির অর্থ হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি সদস্যের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, চুক্তিটির উদ্দেশ্য 'সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করা'।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো আগের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ইরানকে প্রতিহত করা এবং অনির্ভরযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলা করা।
