জাহাজে পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে, এশীয় বাজারের জন্য তেলের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে সৌদি আরব
লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথিদের ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়ে, জ্বালানি তেল পরিবহনের খরচ বেড়েছে। তাই সুয়েজ খাল দিয়ে বিকল্প রুটে এশিয়ায় পাঠানো অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়াতে পারে সৌদি আরব। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি প্রতি ব্যারেলে সর্বোচ্চ ৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো তাদের লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে তেলের প্রবাহ—মিসরের আইন সুখরা বন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেখান থেকে সুয়েজ-মেডিটেরেনিয়ান (সুমেদ) পাইপলাইনের মাধ্যমে এই অপরিশোধিত তেল সিদি কেরির বন্দরে আনা হয়, এবং পরে সেখান থেকে তা এশিয়ার বাজারে পাঠানো হয়।
মিসরের সিদি কেরির বন্দর থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোতে এই অপরিশোধিত তেল লোড করে আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে এশিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ফলে এশিয়ায় পৌঁছাতে ট্যাঙ্কারগুলোর যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এবং তা পরিবহনকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে। রয়টার্সের একটি সূত্রের তথ্যমতে, এই পথ পরিবর্তনের কারণে প্রতি চালানে অতিরিক্ত ১ কোটি ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল অনেকটাই ধীর হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় কিছু জাহাজ মালিক তাদের ট্যাঙ্কারগুলোকে লোহিত সাগরের উত্তর দিকে সুয়েজ খালের অভিমুখে নিয়ে যাচ্ছেন। সুয়েজ-আফ্রিকা হয়ে এশিয়ায় যাওয়ার এই বিকল্প পথটির মাধ্যমে বাব এল-মান্দেব দিয়ে যাওয়ার তুলনায়— যাত্রার সময় প্রায় এক মাস বেশি লেগে যাচ্ছে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই একটি সৌদি ট্যাঙ্কার এই দীর্ঘ পথটি বেছে নিয়েছে। জাহাজ পরিবহনের তথ্যানুযায়ী, লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে আংশিক সৌদি তেল বোঝাই করা সুপারট্যাঙ্কার 'অলিম্পিক লাক' গত রোববার দিনের শেষ দিকে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে।
অন্যান্য অনেক ট্যাঙ্কারও বাব এল-মান্দেব প্রণালি থেকে যাত্রাপথ বদলে সুয়েজের দিকে ফিরে আসছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি তেল পরিবহনের দিন দিন জটিল হতে থাকা পরিস্থিতির চিত্রই তুলে ধরে। ইরান যুদ্ধের কারণে একদিকে হরমুজ প্রণালি অচল হয়ে রয়েছে, অন্যদিকে এখন সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলের প্রধান বিকল্প রুটটিতেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান তাদের সংঘাতের বিরতি দীর্ঘায়িত করেছে—এমন খবরের পর নতুন করে জেগেছে শান্তি আলোচনার আশা। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে।
