সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর মুখে জ্বালানির শুল্ক-কর ছাড় থেকে পিছু হটল সরকার
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান কমাতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। এমন এক সময়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর শুল্ক-কর কমিয়ে সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে বাংলাদেশ সরকার নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের মাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যয়েরও প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের পক্ষ থেকে কর ছাড় দিতে কেন ধারাবাহিকভাবে অস্বীকৃতি জানানো হচ্ছে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ী নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষার ছাতা দিতে— বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানির তেলে শুল্ক ও কর হার কমিয়ে, লভ্যাংশের মার্জিন নির্ধারণ করে এবং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন টিবিএসকে বলেন, অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে যেসব সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলো সম্প্রসারণ করার আর্থিক সক্ষমতাও এখন সরকারের নেই। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু করায় সেখানেও টান পড়েছে।
তিনি বলেন, "জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ইনফ্লেশনারি প্রেসার (মূল্যস্ফীতির চাপ) নিয়ন্ত্রণে ফিসক্যাল (রাজস্ব) ও মনিটারি পলিসিতে (মুদ্রানীতি) যে ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা দেখা যাচ্ছে না।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা দেখা যাচ্ছে। ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলছেন, সরকার যেখানে জ্বালানির ওপর শুল্ক ও কর থেকে আগের চেয়ে বেশি রাজস্ব সংগ্রহ করছে, সেখানে কেন সাধারণ ভোক্তাদেরই তেলের দাম বাড়ানোর এই বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হবে? বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকটি দেশ যেখানে কর ছাড় ও সরাসরি ভোক্তা-সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছে, বহু পোস্টে তার সঙ্গে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের তুলনা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)-এর হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর অন্তত ৫৫টি দেশ ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে সরাসরি রাজস্ব নীতিগত পদক্ষেপ (শুল্ক-কর হার কমানো) নিয়েছে। যার মধ্যে আঞ্চলিক প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া এবং পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বি ভিয়েতনামও রয়েছে। কিন্তু, এখানে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী এক অবস্থান বজায় রেখেছে।
গত রোববার রাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিচালনগত লোকসান এবং প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি পাচারের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সরকার।
তবে দেশের জ্বালানি কর কাঠামোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্র কীভাবে নিষ্ক্রিয় থেকেই লাভবান হচ্ছে। দেশে জ্বালানি তেলের আমদানিমূল্যের ওপর সরাসরি প্রায় ৩২ শতাংশ সঞ্চিত শুল্ক ও কর ধার্য করা হয়। একের পর এক আসা সরকারের বজায় রাখা বিদ্যমান ইনভয়েস-ভ্যালু বা চালান-মূল্যভিত্তিক কর ব্যবস্থার অধীনে, নির্ধারিত শুল্কায়নের পরিবর্তে প্রকৃত আমদানিমূল্যের ওপর শতকরা হারে শুল্ক ও কর হিসাব করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে–-দেশে খুচরা পর্যায়ের দাম এবং লিটারপ্রতি সরকারের সংগৃহীত মোট রাজস্ব—উভয়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফুলেফেঁপে ওঠে।
এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সিঙ্গাপুর স্পট মার্কেটে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮১.৮০ মার্কিন ডলার। এতে প্রতি লিটারের দাম হয় প্রায় ১৪০ টাকা। তার ওপর প্রায় ৩২ শতাংশ শুল্ক ও কর যোগ হয়ে আমদানি ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৪৫ টাকাই সরকার রাজস্ব বাবদ পাচ্ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রকৌশল অনুষদের ডিন এম শামসুল আলম জ্বালানি কর ও মূল্য নির্ধারণে সরকারের এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির কড়া সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, "সরকার একদিকে ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয়, অন্যদিকে মুনাফাও করে। অথচ সরকারের এখানে মুনাফা করার কথা নয়।"
সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে বললেও এর সঙ্গে একমত নন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে জ্বালানি তেলে সরকার অবিরাম মুনাফা করছে। এই সময়ে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে দাম কমানো হয়নি।"
দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি আমদানি থেকে বাড়ে রাজস্ব
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে এনবিআর বিপিসির কাছ থেকে ৯,২৫১ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করেছে।
জ্বালানি বিভাগ ও এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর সময় যখন জ্বালানি তেলের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, তখন দেশের বাজারে দাম সহনীয় রাখতে জ্বালানি বিভাগ রাজস্ব কর্তৃপক্ষকে কর কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণ বাড়লেও, এ ধরণের অনুরোধ করেনি জ্বালানি বিভাগ।
বরং গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জ্বালানি তেলের ওপর শুল্ক-কর আরোপের ক্ষেত্রে ট্যারিফ ভ্যালু নির্ধারিত ছিল, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও শুল্ক-করের পরিমাণ বাড়তো না। ওই সরকারের শেষ সময়ে ট্যারিফ ভ্যালুর বদলে ইনভয়েস ভ্যালুর ওপর শুল্ককর আরোপ করায় আমদানি মূল্য বাড়লে শুল্ককরও বাড়ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপি সরকারও একই নিয়ম মেনে চলছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক অর্থনীতিতে ফেলছে বাড়তি চাপ
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ১৭ মাসে সরকার যখন তার ২৪ লাখ চাকুরিজীবী ও পেনশনারদের স্বস্তিতে রাখতে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য বেতন-ভাতায় অতিরিক্ত ১.০৫ লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ করবে, তখন তেলের দাম বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে বিপিসির মাধ্যমে বাড়তি প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আয়ের পাশাপাশি— আগের চেয়ে বাড়তি রাজস্বও আহরণ করবে সরকার।
তেলের দাম বাড়ানোর পর যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে নির্ধারণ করেছে সরকার। পণ্যবাহী ট্রাক ও নৌযানের ভাড়া একই হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে সেচকাজে বাড়তি ব্যয়ের প্রভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে, কমাবে ভোক্তাদের ক্রয়-ক্ষমতাও। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিল্পের উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক অর্থনীতিজুড়ে।
গত এক দশকে বিপিসির বিশাল মুনাফা
জ্বালানি খাত থেকে সংগৃহীত উচ্চ হারের শুল্ক-কর আদায় করা ছাড়াও, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে পরবর্তী এক দশকে বিপিসি প্রায় ৫৫,৮৩৭ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছে। এই সময়ে লভ্যাংশ ও কর বাবদ সরকারের কোষাগারে বিপিসি জমা দিয়েছে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ বিপিসির হিসাবে, গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত জ্বালানি তেলে সংস্থাটির লোকসান হয়েছে ২০,০৫৯ কোটি টাকা।
এনবিআরের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাই-স্পিড ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন এবং এলপিজিসহ নয় ধরনের জ্বালানি তেল থেকে সরকার ১৩,৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১০,৬০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে রাজস্ব বেড়েছে প্রায় ২৯ শতাংশ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে জ্বালানি তেল ও এলপিজি থেকে অর্জিত রাজস্বের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৮০০ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ২,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৯০ শতাংশ।
এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিবিএসকে জানান, পূর্বে জ্বালানি তেলের শুল্ক-কর গণনা করা হতো ট্যারিফ ভ্যালুর ভিত্তিতে, কিন্তু এখন তা ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে করা হচ্ছে, যার কারণে রাজস্ব সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কর কমানোর দাবি ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলোর
ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, "জ্বালানি তেলের মতো নিত্যপণ্যের আমদানিতে প্রায় ৩২ শতাংশ ইমপোর্ট ট্যাক্স থাকা অযৌক্তিক। এই হার কমানোর জন্য আমরা এর আগে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানিতেও বলেছিলাম।"
তিনি বলেন, "গত কয়েক বছরে ডলারের বিপরীতে টাকা দর হারানোর কারণে জ্বালানির খরচ ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সরকার এই বাড়তি আমদানিমূল্যের ওপরও যেমন কর আদায় করছে, তেমনি জ্বালানির দাম বাড়লে রাজস্বও বেশি পাচ্ছে। আর এই চাপ যাচ্ছে ভোক্তার ঘাড়ে।"
ক্যাব সভাপতি বলেন, সরকার এনবিআরকে বড় রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেয়। এজন্য এনবিআর-ও যেসব খাত থেকে সহজে রাজস্ব আদায় করা যায়, সেগুলোকে টার্গেট করে।
"জ্বালানি হলো অর্থনীতির হৃদপিণ্ড"– উল্লেখ করে তিনি বলেন, "তাই জ্বালানির দাম বাড়লে—তা সব মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। তাই এ পণ্য আমদানিতে শুল্ক-কর ভার থাকা উচিত একেবারেই সর্বনিম্ন পর্যায়ে" –বলেন তিনি।
ফর্মুলাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ থেকে সরে আসা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন
অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকারের একটি ফর্মুলা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রতি মাসের শেষ দিন পরবর্তী মাসের জন্য মূল্য নির্ধারণ করার কথা। আগস্টের শেষ দিন সরকার বলেছিল যে, সেপ্টেম্বরে দাম বাড়বে না, তা সত্ত্বেও দাম বাড়ানো হয়েছে।
''এক্ষেত্রে সরকার ফর্মুলা বেজড পলিসি থেকে ডিসিশন বেজড পলিসি বাস্তবায়ন করেছে। এই সরকার আসার পর থেকে নীতি প্রয়োগে ব্যতয় ঘটেছে, এপ্রিলে দাম বাড়ানোর সময়ও তারা এই নীতির প্রয়োগ করেনি। ফলে ট্রান্সপারেন্সি (স্বচ্ছতা) হারিয়ে গেছে'' – বলেন তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের কর-জিডিপির অনুপাত যেখানে মাত্র ৬.৮ শতাংশ, সেখানে এনবিআরের কর ছাড় দেওয়ার সুযোগ সীমিত। "তাই তেলের দাম না বাড়ালে– সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে এবং ভর্তুকির টাকা জনগণের কাছ থেকেই রাজস্ব হিসেবে আদায় করতে হবে। হয়তো অন্য কোনখাত থেকে আদায় করতে হবে, নাহলে সরকারের ব্যয় কমাতে হবে।"
অন্যান্য দেশ যেভাবে কর ছাড় ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ব্যবহার করছে
তেল উৎপাদনকারী ও তেল আমদানিকারক—উভয় ধরনের দেশেই জ্বালানি কর প্রচলিত রয়েছে। সৌদি আরবের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ধার্য করে, অন্যদিকে আমদানিকারক দেশগুলো আবগারি শুল্ক ও কাস্টমস শুল্ক আরোপ করে থাকে। কিছু উন্নত অর্থনীতির দেশ তেলের ওপর কার্বন করও আরোপ করে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশে খুচরা জ্বালানি মূল্যের প্রায় অর্ধেকই বিভিন্ন ধরনের কর। যেমন নেদারল্যান্ডসে জ্বালানি পাম্প পর্যায়ে তেলের খুচরা মূল্যের ৫২ শতাংশই হচ্ছে বিভিন্ন কর।
তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে অনেক দেশের সরকারও পুরো মূল্যবৃদ্ধির বোঝা ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে না দেওয়ার পথ বেছে নেয়। পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে তারা জ্বালানি কর ছাড়, সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ (প্রাইস ক্যাপ), সরাসরি ভর্তুকি এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সহায়তার পথ অবলম্বন করে।
আইইএ জানায়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিশৃঙ্খলার পর জ্বালানি ব্যবহার কমাতে এবং গৃহস্থালি ও ব্যবসাবাণিজ্যের খরচ কমাতে অনেক দেশের সরকারই স্বল্পমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যেমন পাকিস্তান জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও— মোটরসাইকেল আরোহী, কৃষি ও পরিবহন খাতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি দিয়েছে। ভোক্তাদের ওপর মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সীমিত করতে ভারত আবগারি শুল্ক কমিয়েছে, পাশাপাশি শোধনাগার ও খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের মুনাফার ওপর সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম—গত মার্চ মাসে তিন মাসের জন্য কিছু জ্বালানি কর স্থগিত এবং অন্যান্য শুল্ক হ্রাস করেছিল, যা পরবর্তীতে জুন মাসে বাড়িয়ে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে। ভিয়েতনাম সরকার জানিয়েছে, এই মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়া রোধ করতে সাহায্য করবে।
এশিয়ার আরেক প্রতিবেশী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া জ্বালানি কর হ্রাসের পাশাপাশি মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তাকে সমন্বিত করেছে। তেলের বিশ্ববাজারে ধারাবাহিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশটির সরকার জ্বালানিতে কর ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়েছে।
