হজের বিমান ভাড়া কমলো, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা
হজের বিমান ভাড়া কমায় আগামী বছর পবিত্র হজ পালনের খরচ আরও কমছে। ২০২৭ সালে হজ পালনে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ হজ প্যাকেজ ও হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এ ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার দুটি প্যাকেজ রাখা হয়েছে। হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২-এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
এ ছাড়া বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য 'বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ' নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, "২০২৬ সালের হজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা, নিবিড় তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আগামী বছরের জন্য আরও উন্নত ও সাশ্রয়ী হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন উন্নয়ন আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকার হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, খাবার ও সেবার মান উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি—এই চারটি সার্ভিস প্যাকেজ থাকলেও ২০২৭ সালে তা কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। 'ডি' ক্যাটাগরি বাদ দেওয়ায় সেবার মান আরও সমন্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিমানভাড়া কমায় কমেছে হজের খরচ
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ছিল হজকে আরও সাশ্রয়ী করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে হজ প্যাকেজের খরচ কমেছে।
তিনি জানান, "২০২৩ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের বিমানভাড়া ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। ২০২৫ সালে তা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা। আর ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া কমিয়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।"
সরকারি দুই প্যাকেজে যা থাকছে
মন্ত্রী জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের অনুমোদন দিয়েছে হজ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটি।
হজ প্যাকেজ-১-এ হজযাত্রীদের আবাসন হবে হারাম শরিফের বাইরের চত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনার মারকাজিয়া এলাকায়। মিনা জোন-২-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে। মিনা-আরাফার সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী ক্যাটারিংসহ খাবার সরবরাহ করা হবে।
অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করে কক্ষ উন্নীতকরণ ও স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজের সুবিধাও নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।
অন্যদিকে, হজ প্যাকেজ-২ বা সাশ্রয়ী প্যাকেজে আবাসন হবে হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে। মিনা জোন-৫-এ তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হবে।
হোটেল হারাম শরিফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুযায়ী সার্বক্ষণিক বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।
বেসরকারি প্যাকেজ
বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত 'বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ'-এ আবাসন হবে হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং মসজিদে নববী থেকে ১ কিলোমিটারের মধ্যে।
একটি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জনের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। মিনা জোন-৫-এ তাঁবু এবং সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেল হারাম শরিফ থেকে দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে বাস সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এ প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।
মন্ত্রী জানান, তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো সরকার নির্ধারিত এই সাধারণ প্যাকেজ অনুসরণ করবে। তবে পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত সুবিধা যুক্ত করে আরও তিনটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।
তবে সরকারি প্যাকেজ-২-এ নির্ধারিত সেবা ও সুবিধার চেয়ে কম সুবিধার কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করা যাবে না। দোভাষী, আদাবি ও ক্যাটারিং-সংক্রান্ত ব্যয় বাদ দিয়ে কোনো প্যাকেজ প্রচার করা যাবে না। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন ছাড়া কোনো হজযাত্রীর নিবন্ধনও করা যাবে না।
নিবন্ধন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে ৩ লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন এবং পুরো অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে।
হজে যেতে পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। আগামী বছরের হজ ফ্লাইট ৮ এপ্রিল শুরু হবে। ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যে দেশে অবস্থান করবেন, সেখান থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নিয়ে হজ ভিসার আবেদন করতে পারবেন। আগে এসব কাজের জন্য তাদের বাংলাদেশে আসতে হতো।
পাশাপাশি প্রবাসীরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখান থেকে সরাসরি সৌদি আরবে যেতে পারেন—এমন সুযোগ তৈরির বিষয়েও সরকার কাজ করছে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে ধর্মমন্ত্রী বলেন, "গণমাধ্যম অতীতের মতো এবারও হজ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে যথাযথভাবে জানাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করে। এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।"
