পূর্ব জার্মানির নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জিতল অভিবাসন-বিরোধী কট্টর ডানপন্থি দল, ধন্যবাদ দিল মাস্ককে
জার্মানির পুর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) বড় জয় পেয়েছে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির প্রথম কট্টর ডানপন্থী রাজ্য সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দলটি সামান্য পিছিয়ে রয়েছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে বড় ধরনের ভরাডুবি হয়েছে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ)।
এএফডির গভর্নর পদপ্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড বলেন, 'আমরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।' দলটি দেশ শাসনের সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পেয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
জার্মানির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে উলরিখ বলেন, ভোটাররা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে 'এভাবে আর চলতে পারে না'। তিনি আরও বলেন, 'এই নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের জন্য খুব ভালো একজন প্রচারক ছিলেন ফ্রিডরিখ মের্ৎস।'
রোববার রাতে উলরিখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইলন মাস্ককে ধন্যবাদ জানান। তিনি লেখেন, 'আমাদের সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আপনার সমর্থন এবং স্পষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ধন্যবাদ।' তিনি আরও লেখেন, 'আপনার সঙ্গে শক্তিশালী ও গঠনমূলকভাবে কাজ করার সুযোগ পেলে আমি খুবই খুশি হব।'
এর আগে এএফডির সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যালিস ভাইডেল নির্বাচনে দলটির সম্ভাব্য জয়ের কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দিলে তাতে জার্মান ভাষায় 'দারুণ হয়েছে!' মন্তব্য করেন মাস্ক।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে কোনো মন্তব্য ছাড়াই নির্বাচনের ফলের পূর্বাভাসের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে এএফডির 'ঐতিহাসিক জয়' বলে প্রশংসা করেন।
এএফডি ক্রেমলিনপন্থী হিসেবে পরিচিত। দলটি ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনীয়দের আর শরণার্থীর মর্যাদা না দেওয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে।
রাজ্য পার্লামেন্টে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চেয়েছিল কট্টর ডানপন্থী এএফডি। তবে ৮৩ আসনের পার্লামেন্টে দলটি পেয়েছে ৩৯টি আসন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে তিনটি কম।
৩৫ বছর বয়সী এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড জানান, সংখ্যালঘু সরকার গঠনের মতো কোনো 'খেলায়' তারা যাবে না। তবে এএফডিকে বাদ দিয়ে বিরোধী দলগুলো কীভাবে স্থিতিশীল সরকার গঠন করবে, তা স্পষ্ট নয়।
এএফডি পেয়েছে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই রাজ্যটি বার্লিনের পশ্চিমে অবস্থিত।
এদিকে মের্ৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) পেয়েছে ১৭ দশমিক ২ শতাংশ ভোট ও ১৫টি আসন। দলটি আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেক সমর্থন হারিয়েছে।
সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি) পেয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ, গ্রিনস ৮ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দ্য লেফট ৮ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। তিন দলই পেয়েছে আটটি করে আসন। বিএসডব্লিউ পেয়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট ও পাঁচটি আসন।
বিএসডব্লিউ জানিয়েছে, তারা সিগমুন্ড বা বর্তমান গভর্নর স্বেন শলৎসকে সমর্থন করবে না। তবে এএফডির সঙ্গে মূলধারার দলগুলোর জোট না করার 'ফায়ারওয়াল' নীতিরও সমালোচনা করেছে দলটি।
নির্বাচনে রেকর্ড ৭৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ফলাফলের পূর্বাভাস প্রকাশের পর সমর্থকদের উদ্দেশে সিগমুন্ড বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তন চায়—এমন সব গণতান্ত্রিক দলের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত। তবে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মতো বিষয় নিয়ে কোনো আপস করা হবে না বলেও জানান তিনি।
সিডিইউ তাদের ফলকে 'তিক্ত' বলে উল্লেখ করেছে। তবে এএফডির সঙ্গে সরকার গঠনে যাবে না বলে জানিয়েছে দলটি। এএফডিও এমন জোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে স্যাক্সনি-আনহাল্টের মাত্র ৯ শতাংশ ভোটার মের্ৎসের নীতিতে সন্তুষ্ট ছিলেন।
এএফডির অ্যালিস ভাইডেল বলেন, নির্বাচনের ফল দলটিকে 'সরকার গঠনের স্পষ্ট ম্যান্ডেট' দিয়েছে। এএফডি কীভাবে সরকার গঠন করতে পারে, তা নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
রাজ্যটিতে ভোট দেওয়ার যোগ্য মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ লাখ। নির্বাচনের আগে শেষ জরিপগুলোতে এএফডির সমর্থন ছিল ৪০ থেকে ৪১ শতাংশ। ২০২১ সালে দলটি পেয়েছিল ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট।
জরিপে দেখা গেছে, এবার নির্বাচনের আগে সিদ্ধান্তহীন ভোটারের সংখ্যাও আগের তুলনায় কম ছিল।
ছোট এই রাজ্যটি ২০০২ সাল থেকে মের্ৎসের রক্ষণশীল সিডিইউ ও আরও দুটি ছোট দলের জোটে পরিচালিত হয়ে আসছে।
