ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে: ইসি আনোয়ারুল
নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, 'আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব, ইনশা আল্লাহ।'
ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে। এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরো সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে এবং এজন্য কমিশন প্রস্তুত। শিগগিরই এর তফসিল ঘোষণা করা হবে। ইউপি নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশন ও অন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
