টিবিএসে সংবাদ প্রকাশের পর অভিযানে ৫৫ বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার
বন্যপ্রাণী পাচার রোধে চট্টগ্রাম বন বিভাগের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যে চকরিয়া ও ঢাকায় সমন্বিত অভিযানে ৫৫টি বিরল দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে একক অভিযানে সবচেয়ে বড় বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযান।
এর আগে, গত ৬ জুন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডে (টিবিএস) 'Conservationists rescue rare langur, question Ctg Forest Dept's inaction on wildlife trafficking'- শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা দুই দিন ঢাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কথিত পাচারচক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে এবং ৫৫টি বিরল প্রজাতির দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সোমবার (৮ জুন) কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় মো. হাদিসুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। এ সময় তার কাছ থেকে ১৩টি পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ এবং একটি উল্লুক উদ্ধার করা হয়।
হাদিসুর রহমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ (৯ জুন) ঢাকার মিরপুর-১২ এর ইস্টার্ন হাউজিং সংলগ্ন সোনালী বাজার এলাকার একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে ৪২ টি বিরল প্রজাতির দেশীয় বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট।
এসময় অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে— রাজধনেশ ৩টি, চশমা-পরা হনুমান ৩টি, পাহাড়ি হলুদ কচ্ছপ ১৩টি, টিয়া পাখি ১২টি, ময়না ১টি, লজ্জাবতী বানর ৩টি, ঈগল পেঁচা ১টি, এশিয়ান পাম সিভেট ৩টি এবং সজারু ৩টি।
পরে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. সাজুদ্দিন (২৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বন্যপ্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টিবিএসকে বলেন, 'এ পাচার চক্রের সঙ্গে মো. হাদিসুর রহমান জড়িত। তিনি এর আগে চকরিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'তার [হাদিসুর রহমান] স্ত্রী খুশি অনলাইনে চক্রটির কার্যক্রম সমন্বয় ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।'
তিনি আরও বলেন, 'উদ্ধার হওয়া বন্যপ্রাণীগুলো প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য বন অধিদপ্তরের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী এগুলোকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।'
বনবিভাগের অপরাধ দমন ইউনিটের তথ্যমতে, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী শিকার, সংগ্রহ, পরিবহন ও পাচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
