যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বন্যপ্রাণী চোরাকারবারি হাদিস, খোঁজ মিলল তার গোডাউনের
৯ জুন সকাল এগারটা। দুটি ঘটনা ঘটছিল সমান্তরালে। দুয়েরই নায়ক এক ব্যক্তি। নাম হাদিস রহমান। প্রকাশ্যে পাখি ব্যবসায়ী, আড়ালে বন্যপ্রাণী পাচারকারী। ৯ জুন যখন তাকে কোর্টে ওঠানো হয়, তখনই বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট তার ঢাকাস্থ গোডাউনে অভিযান চালায়।
ঘটনা দুটির সূত্রপাত ৭ জুন। সন্ধ্যাবেলায় ওয়াইল্ডলাইফ ইন্সপেক্টর অসীম মল্লিকের তথ্যদাতা জানান, কক্সবাজারের চকরিয়ার একটি বাড়িতে কিছু বন্যপ্রাণী আটকে রাখা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলোকে পাচারের জন্য রওনা করিয়ে দেওয়া হবে।
অসীম জানতে চাইলেন, 'আপনার তথ্য কতটা সত্যি?' তথ্যদাতা বললেন, 'একশ ভাগ।'
বাইপাস করে খুলনায়
অসীম ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চকরিয়ার ব্যাপারটি জানালেন। কর্তৃপক্ষ অসীমকে একটি দল নিয়ে যাত্রা করার অনুমতি দিলেন। যাত্রা করার প্রস্তুতি নিতে কিছু সময় চলে গেল। এর মধ্যে তথ্যদাতা আবার জানালেন পাচারকারী কিছু একটা টের পেয়ে প্রাণীগুলোকে অন্য কোনো গোডাউনে নিয়ে গেছেন।
অসীম তাকে আবার খোঁজ নিতে বললেন। তথ্যদাতা খোঁজ নিয়ে নতুন গোডাউনটির সন্ধানও পেয়ে গেলেন। অসীম যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা জানালে তথ্যদাতা বললেন, 'ঘটনাস্থলে আপনাদের পৌঁছাতে কম করে হলেও দশ ঘণ্টা লেগে যাবে। এর মধ্যে পাচারকারীরা রওনা দিয়ে দিতে পারে। তাই আঞ্চলিক বন বিভাগ অভিযান চালালে ভালো হয়।'
অসীম জানতে চাইলেন, পাচারের রুট কোনটি মনে করেন?
তথ্যদাতা বললেন, 'তারা ঢাকায় ঢুকবে না, বাইপাস করে খুলনা চলে যাবে।'
শোনার পর থেকেই 'ঢাকায় ঢুকবে না' কথাটি অসীমের মাথায় ঘুরতে থাকল। ঢাকায় কি তবে আরেকটি গোডাউন আছে? তথ্যদাতাকে অবশ্য তখনি কিছু বললেন না। আগের কাজ আগে করা যাক ভেবে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক বন বিভাগে খবর পাঠালেন। চকরিয়ায় অভিযান চালাতে অনুরোধ করলেন।
সবচেয়ে বড় চালান
চট্টগ্রাম বন বিভাগ দেরি না করে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের একটি দলকে অভিযান চালাতে নির্দেশ দেয়। সে অভিযানে চোরাচালানী হাদিস রহমানকে ১২টি হলুদ কচ্ছপ ও ১টি হনুমানসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
আগে পাচারের সঙ্গে হাদিসের সম্পৃক্তির প্রমাণ পাওয়া গেলেও হাতেনাতে ধরার ঘটনা এটিই প্রথম। তাই একদিনের মধ্যেই ৯ জুন হাদিসকে তোলা হয় আদালতে। মামলাটির শুনানি যখন চলছিল তখন অসীমের নেতৃত্বে অপরাধ দমন ইউনিট পৌঁছায় হাদিসের ঢাকার গোডাউনে।
ঢাকার এ গোডাউনটির খবর আদায় করেছিলেন অসীম আগের তথ্যদাতার কাছ থেকেই। চট্টগ্রাম বন বিভাগের কাছে অভিযান হস্তান্তরের পর অসীম তথ্যদাতার সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন।
ঢাকায় হাদিসের একটি গোডাউন থাকতে পারে—এমন ভাবনা অসীমের মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। প্রথম দিকে তথ্যদাতা না জানার ভান করছিলেন। সম্ভবত তিনি ভয় পাচ্ছিলেন অথবা গোডাউনের সঙ্গে তারও কোনো স্বার্থ জড়িত থাকবে। কিন্তু অসীম তাকে বোঝাচ্ছিলেন, 'দেশের জন্য এটা তার করা উচিত। এভাবে বন্যপ্রাণী পাচার হতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, প্রাণীকুল তো বটেই মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।'
অনেক বোঝানোর পর শেষে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তথ্যদাতা। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং থেকে আটক করা হয় দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বন্যপ্রাণীর চালানটি।
এর মধ্যে আছে—একটি রাজ ধনেশ, তিনটি চশমাপরা হনুমান, ১৩টি পাহাড়িয়া হলুদ কচ্ছপ, তিনটি শজারু, তিনটি লজ্জাবতী বানর, একটি ইগল পেঁচা, তিনটি এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলসহ মোট ৪২টি বন্যপ্রাণী।
সোর্স কারা হয়
আপনাদের তথ্যদাতা বা সোর্স কারা হয়? জানতে চেয়েছিলাম অসীমের কাছে।
তিনি বললেন, "সাধারণত বিরোধীপক্ষ তথ্য দিয়ে থাকে। হাদিসও কিন্তু আমাদের তথ্য দিয়েছে বিভিন্ন সময়। দুটি কারণে তারা তথ্য দিয়ে থাকে; ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে এবং নিজেকে ভালো প্রমাণ করতে।"
অসীম বললেন, "পাচার প্রক্রিয়ায় তিনটি পর্যায় থাকে। প্রথম পর্যায়ে কাজ করে প্রাণী সংগ্রাহক দল। মাঝখানে কাজ করে মিডলম্যানরা। সাধারণত স্থানীয় প্রভাবশালী লোকেরা মিডলম্যান হয়ে থাকেন। সংগ্রাহকদের তারা নামমাত্র মজুরি দিয়ে থাকেন অথবা ফাঁদে ফেলে ব্যবহার করেন। প্রাণী সংগ্রহ করা গেলে মিডলম্যানরা পাচারকারী ৪-৫টি দলের কাছে খবর পাঠান। নিলাম প্রক্রিয়ার মতো তারা প্রাণীদের দাম ওঠান, যারা কিনতে ব্যর্থ হন তাদের মধ্য থেকেই তথ্যদাতা পাওয়া যায়।"
অল্প সময়ের মধ্যেই অন্য পাচারকারীদের তুলনায় হাদিস বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন। দিনের পর দিন তিনি পাহাড় ও বনাঞ্চলে পড়ে থাকতেন। অনেক টাকা খরচ করতেন। ধারেকাছে কোনো প্রতিপক্ষ ভিড়তে দিতে চাইত না।
মিডলম্যানরা সংগ্রাহকদের ফাঁদে ফেলতেন আর হাদিস ফাঁদ তৈরি করতেন মিডলম্যানদের জন্য। বন্যপ্রাণী চোরাচালান চক্রের মাফিয়া হয়ে উঠেছিলেন হাদিস। প্রতিপক্ষরাও সুযোগ খুঁজছিল কবে তাকে ধরিয়ে দেওয়া যায়, আর সুযোগটি তৈরি হয়ে যায় ৭ জুন। আদালত তাকে ৯ জুন এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
প্রথম মামলা ২০২১ সালে
হাদিসের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি রুজু করেছিলেন অসীমই। সেটি পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালের মে মাসে। তখন হাদিসের পাখির দোকান মাহিম অ্যাকুরিয়াম বার্ড প্যালেস ছিল মিরপুর-১১ তে।
দোকানে তিনি মুনিয়া, লাভ বার্ড, বাজরিগারের আড়ালে টিয়া, পাহাড়ি ময়না, ফিঙে, তোতা, শালিকও বিক্রি করতেন। খবর পেয়ে অপরাধ দমন ইউনিট অভিযান চালায় এবং তোতা পাখির ১০টি বাচ্চা ও ১টি পাহাড়ি ময়নার বাচ্চা, ৩টি ধনেশ পাখির বাচ্চা, ১টি ভুতুম পেঁচা, শঙখচিল ও ভুবন চিল এবং ২টি টিয়া পাখির বাচ্চা উদ্ধার করে।
অবৈধ পাখি বিক্রির দায়ে দোকান মালিক হাদিসের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী ( সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে মামলা দায়ের করেন অসীম।
জব্দকৃত মালামালের তালিকার সঙ্গে আদালতের কাছে অসীম সমস্ত ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছিলেন তার কিছু অংশ এরকম— 'অদ্য ১৩/০৫/২০২১ ইং তারিখ আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলাধীন মিরপুর ১১, রোড নং ০৩, কাঁচাবাজার সংলগ্ন মাহিম অ্যাকুরিয়াম বার্ড প্যালেসে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে স্বাক্ষী কলামে বর্ণিত স্বাক্ষীগণকে সঙ্গে নিয়ে নিম্নস্বাক্ষরকারী ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ গজ দূর হতে দেখতে পাই যে, কলামে বর্ণিত আসামি জনাব মো. হাদিস রহমান তার মালিকানাধীন সংলগ্ন মাহিম অ্যাকুরিয়াম বার্ড প্যালেসে অবৈধভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশিয় পাখি ও পাখির বাচ্চা ক্রয়-বিক্রয় করিতেছে। আমরা ঘটনাস্থলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হইয়া পাখি বিক্রেতা আসামীকে ধরতে অগ্রসর হইলে আমাদের শরীরে সরকারী ইউনিফর্ম দেখিয়া চিনিতে পারিয়া দ্রুত উত্তর-পশ্চিম দিকে গলির মধ্যে দৌড়াইয়া পলায়ন করে। আমরা তাহাকে ধরিতে পিছু পিছু দৌড়াইতে থাকি। কিন্তু স্থানটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সে আত্মগোপন করিতে সক্ষম হওয়ায় আসামীকে ধরা সম্ভব হয় নাই। কিন্তু দিনের আলোকে স্পষ্টতই আমরা আসামী ভালোভাবে চিনতে পারিয়াছি, যাহা বিজ্ঞ আদালতে আমরা শনাক্ত করিতে পারিব।"
সেবার হাদিসকে হাতেনাতে ধরা যায়নি বলে মামলা শেষ হতে ছয়টি শুনানি দরকার হয়। রায় পাওয়া যায় ২০২৩ সালের শেষ দিকে। ওই মামলায় হাদিসের ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল।
নজর গিয়েছিল ম্যামালের দিকে
২০২২ সালের পর থেকে হাদিসকে কিছুকাল পাখির ব্যবসায় দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছিল, হাদিস অবৈধ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গিয়েছেন। পরে তাকে মিরপুর-১ নম্বরে বার্ড প্যালেস নামে একটি পাখির দোকান দিয়ে বসতে দেখা যায়। এতেও সন্দেহ করার মতো কিছু ছিল না, বরং দেখতে পেলে অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যদের আতিথেয়তা দিতে চেয়েছিলেন। ভালো ভালো কথা শুনিয়েছিলেন—'বন্যপ্রাণীর ব্যবসা ভালো নয়, যারা করে তারা নিঃসন্দেহে মন্দ লোক, এদেরকে বিচারের আওতায় আনা দরকার, আমার পক্ষ থেকে যে কোনো সাহায্য লাগলে বলবেন' ইত্যাদি ।
আসলে এর মধ্যে তিনি নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলেন। আরো উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছিলেন, তার চোখ পড়েছিল বড় বড় প্রাণী তথা ম্যামালের (স্তন্যপায়ী) দিকে। আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। পাহাড় ও বনাঞ্চলে তিনি শক্ত ঘাটি গড়ে তুলেছিলেন। প্রথম নজির দেখা গেল ২০২৫ সালের শেষদিকে।
এক ভোররাতে শাহ আলী থানা পুলিশ একটি কভার্ড ভ্যান থেকে ছয়টি হনুমান আটক করে। গাড়ির ড্রাইভারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চালানটি হাদিসের বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু হাতেনাতে ধরা যায়নি বলে হাদিস আবারও ফাঁক গলে বেরিয়ে যান।
তবে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট এবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। হাদিসের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। ২০২৬ সালের মে মাসের শুরুতে এক তথ্যদাতা খবর পাঠান, আগামী মাসের শুরুতে হাদিসের একটি চালান যাবে। এটিই সেই চালান যেটি ৭ জুন সংগঠিত হয় এবং হাদিস হাতেনাতে ধরা পড়ে। খবর মেলে তার ঢাকাস্থ গোডাউনেরও।
বলেছিল কবুতরের খামার হবে
গোডাউনটি হাদিস ভাড়া নিয়েছিলেন কবুতরের খামারের কথা বলে। যে বাড়িতে গোডাউন ছিল সেটি তিনতলা। নিচের দুইতলার ১৮টি ঘরে নিম্নবিত্ত লোকেদের বাস। ওপরে টিন শেড, নিচে হাদিসের গোডাউন।
অসীম ও তার দল গিয়ে গোডাউন তালাবদ্ধ দেখতে পান, তবে উকি দিয়ে ভিতরে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি নিশ্চিত হন। অসীম বাড়ির কেয়ারটেকারকে জিজ্ঞেস করে আরো নিশ্চিত হন, গোডাউনের মালিকের নাম হাদিস।
গোডাউনে বেশি আসত না হাদিস। মাঝে মধ্যে ভাড়া দিয়ে যেত। সে এটি ভাড়া নিয়েছে দেড় বছর আগে। দেখাশোনা করে তার কর্মচারীরা।
অসীম কেয়ারটেকারের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কখনো কি তারা ওপরে কী আছে দেখতে গিয়েছেন? কেয়ারটেকার বলেছেন, 'কর্মচারীরা রাতে আসে। সকালে আবার তালা দিয়ে বের হয়ে যায়। এক দুবার যখন দেখতে চেয়েছি নানান ছলছুতায় বাধা দিয়েছেন। আসলে আমাদের দরকার ছিল ভাড়া। প্রতি মাসের পাঁচ তারিখের মধ্যেই তা পেয়ে গেছি। তাছাড়া কোনো হৈ চৈ গ্যাঞ্জামও হয়নি যে সন্দেহ করব।'
অভিযানের এক পর্যায়ে অপরাধ দমন ইউনিটের সদস্যরা কর্মচারীকে আনতে মিরপুর-১ নম্বরে হাদিসের দোকানে যান। কর্মচারী কোনো কিছুই না জানার কথা বলেন। পরে যখন কেয়ারটেকারের সামনে এনে হাজির করা হয় তখন কেয়ারটেকার তাকে শনাক্ত করে বলেন, 'হ্যাঁ, এই ছেলেই তো সকালে তালা দিয়ে বের হয়েছে।'
এরপর ক্রমেই সাজুদ্দিন (১ নং আসামী) নামের ছেলেটি সব কথা খুলে বলেন। তার জবানী ধারণ করে হাদিসকে ২ নং এবং হাদিসের স্ত্রীকে ৩ নং আসামী করে রূপনগর থানায় এজাহার দেন অসীম মল্লিক।
এতবড় চালান এর আগে বাংলাদেশে জব্দ করা হয়নি। দেড় বছর ধরে গোডাউনটি চোরাচালানীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার অর্থ হাদিস একটি বড় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রে যুক্ত আছেন। অপরাধ দমন ইউনিট এখন চক্রে যুক্ত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে দুবাই, চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশে প্রাণী পাচার হয়ে থাকে অথবা পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয় বাংলাদেশ। বিকিকিনির অনেকটাই অনলাইনে হয়ে যায় বর্তমান সময়ে। হাদিসের হয়ে অনলাইন বেচাকেনার দায়িত্ব পালন করেন তার স্ত্রী খুশি রহমান। খুশি রহমানের খোঁজও চালিয়ে যাচ্ছে বন বিভাগ। গোডাউন শনাক্ত হওয়ার পর তিনি ডিপ আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছেন।
কচ্ছপের স্যুপ
অসীম বললেন, "আমরা গোডাউনে ঢুকে নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না, এত উৎকট গন্ধ! প্রাণীগুলো গরমে হাঁপাচ্ছিল। বাছবিচার ছাড়া সবগুলো প্রাণীকেই গাজর বা কলা খেতে দেওয়া হয়েছে। আসলে প্রাণীগুলোর যেন ডাকার সামর্থ্য না থাকে তাই সেগুলোকে দুর্বল করে রাখা হয়। একেকটি প্রাণী ব্যাগে পুরে সিএনজিতে করে পরিবহন করা হয়। আমরা প্রাণীগুলো উদ্ধার করে বনভবনের রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে আসি। তারপর ভেটেরিনারি ডাক্তার দেখিয়ে স্যালাইন ও উপযুক্ত খাদ্য প্রদান করি। এখন প্রাণীগুলোকে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুরো সুস্থ হয়ে উঠলে পরে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে।"
অসীম জানিয়েছেন, "বন্যপ্রাণী নিয়ে মানুষের বিচিত্র সব আগ্রহ রয়েছে। ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার সংগ্রহ বৃদ্ধি করা একটি সাধারণ আগ্রহ। কিন্তু প্রাণীর মাংস রেঁধে বা স্যুপের মতো খেয়ে সুপারম্যান হওয়ার চিন্তাধারা অতি বিচিত্র আগ্রহ। আরেকটি অদ্ভুত আগ্রহ হচ্ছে প্রাণীর নখ, ঠোঁট, খোলস দিয়ে অলংকার বানিয়ে নিজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। এই যেমন পাহাড়িয়া হলুদ কচ্ছপের মাংস যেমন স্যুপের মতো করে খাওয়া হয়, আবার খোলস দিয়ে অলংকার বানানো হয়।"
হাদিসের গোডাউন থেকে বন্যপ্রাণী উদ্ধার অভিযানে রূপনগর থানা পুলিশ বিশেষ সহায়তা দিয়েছে। অপরাধ দমন ইউনিট ট্রিপল নাইনে যোগাযোগ করলে তারা কাছাকাছি থাকা দুই ইউনিট পুলিশ পাঠিয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফোন করে সহায়তা পাওয়া গেছে কি-না তা নিশ্চিত হয়েছেন ট্রিপল নাইন পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ।
তবে বিমানবন্দরে নজরদারির দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে পাচার আটকানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখ প্রকাশ করলেন অসীম মল্লিক।
অপরাধ দমন ইউনিটের নিজস্ব কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় পাচারকারীরা সুযোগ নিয়ে থাকে প্রায়ই। ইউনিট সদস্যরা কখনো কখনো জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও পড়ে যান। অসীম আশা করেন এ ব্যাপারে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
ছবি: বন অধিদপ্তরের সৌজন্যে
