ওকাব সভাপতি সাংবাদিক নজরুল ইসলামের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-র ঢাকা প্রতিনিধি এবং ওভারসিজ করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ওকাব) সভাপতি নজরুল ইসলামের ওপর আরোপিত বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার।
গতকাল বুধবার (৬ মে) এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে নজরুল ইসলাম নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, কথা বলার সময় মন্ত্রী তাকে বলেন, 'আপনার বিদেশ গমনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আপনি এখন বিদেশ ভ্রমণে স্বাধীন।'
মন্ত্রী জানান, এই নিষেধাজ্ঞা ছিল আগের সরকারের রেখে যাওয়া একটি বিষয়। তিনি এটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করে বলেন, সেটি এখন সংশোধন করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ব্যক্তিগত সফরে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সাংহাই যাওয়ার কথা ছিল নজরুল ইসলামের। তবে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বিমানে উঠতে বাধা দেয়।
বিমানবন্দরের সেই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে নজরুল জানান, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই 'গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আপত্তি'র কথা উল্লেখ করে তাকে আটকে দিয়েছিলেন।
তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে নিজের চলাচলের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের একটি 'প্রকৃষ্ট উদাহরণ' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন, এটি মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক এই সভাপতি সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই সমস্যার সমাধান থেকে বোঝা যায়—ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত নতুন প্রশাসন অতীতের দমনমূলক নীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখতে আগ্রহী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি লেখেন, 'এই ঘটনাটি আমার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে, রাজনীতি শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের হাতেই সবথেকে নিরাপদ।'
পাশাপাশি এই সাংবাদিক তার পাশে থাকার জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম, ওকাব এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
