বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর—ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা বললেন মাজারের নিরাপত্তাকর্মী
বাগেরহাটের হযরত খানজাহানের মাজারের দিঘিতে একটি কুকুরকে কুমির ধরে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওটি কেন্দ্র করে নেটিজেনদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় 'কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে'—এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে মাজারের নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদার ভিন্ন দাবি করছেন।
মো. ফোরকান হাওলাদার জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘাটে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। হঠাৎ একটি বেওয়ারিস কুকুর এসে তার পায়ে আঁচড় দেয়। আত্মরক্ষার্থে তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দিঘির পানিতে পড়ে যায় এবং সাথে সাথেই দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে নিয়ে যায়।
ফোরকনের দাবি মতে, তিনি কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা ও টিকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে প্রায় আধঘণ্টা পর কুকুরটির মৃতদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার সময় আশপাশে থাকা অনেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। মাজার সংলগ্ন দোকানদার বিনা আক্তার জানান, কুকুরটি আগে থেকেই হিংস্র আচরণ করছিল এবং কয়েকজনকে আক্রমণ করার পাশাপাশি একটি শিশুকেও কামড় দিয়েছিল।
মাদারীপুর থেকে আসা দর্শনার্থীসহ অনেকে এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বিষয়টিকে 'অনাকাঙ্ক্ষিত' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মাজারের পবিত্রতা রক্ষায় সবাইকে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানান।
বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন।
তিনি জানান, 'কুমিরকে কুকুর খাওয়ানো হচ্ছে' শিরোনামে ছড়ানো খবরটির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
