ঈদ শেষেও স্বস্তি ফেরেনি বাজারে; মাংসের দাম চড়া, বাড়ছে সবজির দরও
ঈদ শেষ হলেও নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও সোনালি মুরগি, গরু ও খাসির মাংস এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজির দামও বেড়েছে—যা ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর নিউমার্কেট ও লালবাগ কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজিতে। আর লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকা এবং পাকিস্তানি মুরগি ৩৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, গরু ও খাসির মাংস এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায়—যা ঈদের আগেই বেড়েছিল। এর আগে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায় এক কেজি গরুর মাংস কেনা যেত।
লালবাগে মুরগি কিনতে আসা শরিফুল টিবিএসকে বলেন, "ঈদের পর ভাবছিলাম বাজারে দাম একটু কমবে, কিন্তু তেমন কিছুই হয়নি। মাংস-মুরগির দাম এখনো অনেক বেশি। বাড়িতে মেহমান আছে, তাই বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে।"
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে ঘিরে সারা দেশে গরুর মাংসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। এখনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে গরুর সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় দাম কমছে না।
লালবাগের মাংস বিক্রেতা সেন্টু টিবিএসকে বলেন, "আরও কিছুদিন এই দাম থাকতে পারে। সামনে কোরবানির ঈদ রয়েছে। এর মধ্যে গরুর দাম না কমলে মাংসের দামও কমার সম্ভাবনা কম।"
একইভাবে, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০০ টাকা দরে—যা ঈদের কয়েক সপ্তাহ আগে ৫০ থেকে ১০০ টাকা কম ছিল।
তবে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বাজারভেদে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে—যা ঈদের আগে ছিল ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ঈদের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু বেড়েছে। ঈদের আগে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা—যা এখন মান ও জাতভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। শসার দাম ৪০-৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫০-৬০ টাকা। টমেটো ৩৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া কাঁচামরিচ ৫০ টাকা, শিম ৪৫-৬০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৪০-৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০-১০০ টাকা এবং ধুন্দল, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে সরবরাহ কম থাকা এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে বলে আশা করছেন তারা।
ঈদের পর মাছের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে চাহিদা সীমিত থাকায় দাম আগের মতোই রয়েছে।
বাজারে রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০-৪২০ টাকা, কাতলা ৩২০-৩৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০-২৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষ ও দেশি কই বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৬০০ টাকা কেজি দরে।
অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০-৩৫০ টাকা, কাঁচকি ৪৫০-৫০০ টাকা, মলা ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৩০০-৬০০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
তবে চাহিদা থাকলেও মসলার বাজারে দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
