যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি ‘হাতের নাগালে’ বলে দাবি ইরানের; কূটনীতিতে ভরসা ট্রাম্পের
সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় দুই দেশের বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা এখন 'হাতের নাগালে'। তবে এই 'ঐতিহাসিক সুযোগ' কাজে লাগবে কি না, তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটন কূটনীতিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার ওপর।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, ইরান কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এ বিষয়ে তারা সব সময়ই 'পরিষ্কার'। তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের জনগণের রয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় বৃহস্পতিবার জেনিভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। ওমান আশা করছে, চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে দুই পক্ষই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
যদিও ইরান সমঝোতার কথা বললেও মঙ্গলবার কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে 'স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন' ভাষণে তেহরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি কূটনীতি পছন্দ করলেও ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেবেন না।
২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান আবারও গোপনে অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, 'তারা একটি চুক্তি চায় ঠিকই, কিন্তু তাদের মুখে এখনো সেই কথাটি শুনিনি যে—'আমরা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করব না।'
জেনিভায় ইরানের পক্ষে আরাগচি নিজে লড়লেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। সম্প্রতি ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, অর্থবহ চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরানের হাতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ দিন সময় আছে।
এই আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিশাল বিমানবাহী রণতরি 'ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড'। বর্তমানে এটি গ্রিসের একটি ঘাঁটিতে অবস্থান করছে। জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও (আইআরজিসি) দেশের দক্ষিণে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে তারা 'শক্তিশালী দুর্গ' গড়ে তুলেছে।
