তেলের দাম ‘সবার ধারণার চেয়েও' বেশি কমবে: দাবি ট্রাম্পের
ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই দাম অভাবনীয়ভাবে কমতে যাচ্ছে।
গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ৩২টি দেশ তাদের জরুরি মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা তেলের দাম 'উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে'।
এর আগে সিনসিনাটিতে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে ট্রাম্প তেলের দামের এই ওঠানামাকে 'যুদ্ধের স্বাভাবিক বিষয়' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, 'তেলের দাম অনেক কমে আসবে। যুদ্ধের সময় এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক এবং এটি অনেকটা অনুমেয়। আমি বলব, তেলের দাম আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও কম বেড়েছে। এখন এটি এতটাই কমবে যা কেউ কল্পনাও করতে পারছে না।'
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কড়া নজর রাখছে। তিনি দাবি করেন, 'হরমুজ প্রণালী এখন বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। আমরা তাদের (ইরানের) সব জলযান ধ্বংস করে দিয়েছি। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র থাকতে পারে, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম।'
ইরান যুদ্ধের প্রভাব সামাল দিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে রেকর্ড পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এশীয় বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ সরবরাহ সংকট কাটাতে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি থামানো যায়নি।
এর আগে বুধবার ইরান এক কড়া হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছিল যে, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজের ওপর হামলা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে তেহরান এই হুঁশিয়ারি দেয়।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। তিনি আরও বলেন, 'আপনারা কৃত্রিমভাবে তেলের দাম কমিয়ে রাখতে পারবেন না। তেলের দাম ২০০ ডলারে দেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন।'
