উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস
উপসাগরীয় দেশগুলো এবং জর্ডানের ওপর ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। প্রস্তাবটিতে তেহরানকে অবিলম্বে সব ধরনের যুদ্ধ ও আক্রমণ বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৩টি দেশ এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল এবং জাতিসংঘের ১৩৫টি সদস্য দেশ এতে সহ-পৃষ্ঠপোষকতা বা সমর্থন দিয়েছে। প্রস্তাবটির বিপক্ষে কোনো দেশ ভোট দেয়নি।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে আল জাজিরার গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্ডো জানিয়েছেন, চীন ও রাশিয়া ভোটদানে বিরত থাকলেও তারা এই প্রস্তাব ঠেকাতে তাদের 'ভেটো' ক্ষমতা প্রয়োগ করেনি। নিরাপত্তা পরিষদের ইতিহাসে এটিই কোনো প্রস্তাব যেখানে সবচেয়ে বেশি দেশ (১৩৫টি) সরাসরি সমর্থন দিয়েছে।
গৃহীত এই প্রস্তাবে ইরানের হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দর এবং জ্বালানি স্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি এখন আন্তর্জাতিক আইনের অংশে পরিণত হয়েছে।
'গভীর অনুশোচনা'
ভোটের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির-সাঈদ ইরাভানি কাউন্সিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে 'গভীর অনুশোচনা' প্রকাশ করেন। ইরাভানি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক দিন। আজকের এই সিদ্ধান্ত পরিষদের গ্রহণযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে।'
তিনি এই পদক্ষেপকে নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের চরম অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেন। ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের 'বর্বর যুদ্ধ' এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে সংঘাত শুরু করার জন্য তিনি ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করেন।
ইরাভানি দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১,৩৪৮ জনের বেশি বেসামরিক ইরানি নিহত এবং ১৭,০০০ এর বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মিনাব শহরে ১৭০ জন স্কুলছাত্রীর হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া ১৯,০০০ এর বেশি ঘরবাড়ি ও হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এই 'রেজুলেশন' প্রকৃত সত্যকে আড়াল করছে এবং বর্তমান সংকটের মূল কারণগুলোকে উপেক্ষা করছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, প্রস্তাবটি 'অত্যন্ত ভারসাম্যহীন' হওয়ায় তারা ভোটদানে বিরত ছিলেন। তবে আরব দেশগুলোর বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো অগ্রহণযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন বলেন, এই সংঘাতের কোনো বৈধতা বা আইনি ভিত্তি নেই। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবশ্যই হামলা বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সব পক্ষকে সামরিক তৎপরতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে একটি পাল্টা খসড়া প্রস্তাব তোলা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা পরিষদে পাস হতে ব্যর্থ হয়েছে।
