কাল-পরশুর মধ্যে আসন সমঝোতার ঘোষণা ১১ দলীয় জোটের: জামায়াত আমীর
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী আসন সমঝোতা আগামীকাল অথবা পরশুর মধ্যে চূড়ান্ত হতে পারে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
আসন সমঝোতার ঘোষণার সুনির্দিষ্ট সময় জানতে চাইলে জামায়াত আমীর বলেন, 'আপনারা আগামীকালের ভেতরে দাওয়াত পাবেন, না হলে পরশুদিন। সবার সামনে আমরা একসঙ্গে আসব।'
তরুণ প্রজন্মের সমর্থন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'যুবকেরা বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী যদি কোনো প্রতিশ্রুতি দেয় তাহলে সেটা রক্ষা করে। এই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এর রিফ্লেকশন হয়েছে। যুব শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।'
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তিনি জানান, বৈঠকে নির্বাচনী পরিবেশ বা 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' এবং কোনো সুনির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জ বা অভিযোগ আছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা বলেছি আছে। তবে আমরা এই মুহূর্তে এসব তাদের আগেই জানাতে চাচ্ছি না বলে জানিয়েছি। কারণ, এসব সমাধান করা যাদের দায়িত্ব আগে তাদের জানাব; প্রধানত—নির্বাচন কমিশনকে। নির্বাচন কমিশনকে অর্থবহ সহযোগিতা করা সরকারের দায়িত্ব। যদি এই দুই অথোরিটিকে জানানোর পর সমাধান পেয়ে যাই তাহলে বাইরের কাউকে জানাব না। যদি সমাধান না পাই তাহলে জনগণকে জানাব। তখন আপনারাও (ইইউ) জানতে পারবেন।'
জামায়াত আমীর বলেন, 'ক্ষমতায় গেলে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে তারা (ইইউ প্রতিনিধি দল) জানতে চেয়েছে। আমরা বলেছি, নির্দিষ্ট কোনো রাষ্ট্রের দিকে আমরা ঝুঁকতে চাই না। বরং সারা বিশ্বের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সমন্বয় রক্ষা করে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে চাই।'
এ সময় মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'কতিপয় মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা একটি দলের দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। ওই ঝোঁকে আর এখন বাংলাদেশে বড় কিছু হয় না৷ তবে আমরা তাদের কাছে এ রকম কিছু প্রত্যাশা করি না। গণমাধ্যমের পজিশনে গণমাধ্যম, এটা দলীয় মাধ্যম না—এটা মাথায় রেখে ফাংশন করুক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'
