এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ে পাট, চামড়া, ওষুধ ও কৃষি খাতের জন্য কর, ঋণ, ইউটিলিটি খরচ কমানোর পরিকল্পনা
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) কাতার থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে রপ্তানিনীতি বদলে ভর্তুকিনির্ভর কাঠামো থেকে সরে এসে উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা এবং হাইটেক শিল্পায়নের দিকে জোর দিতে হবে—এমন সুপারিশ করেছে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত এই কমিটি, এলডিসি গ্রাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চীনের "মেইড ইন চায়না ২০২৫" এবং ইন্দোনেশিয়ার "মেকিং ইন্দোনেশিয়া ৪.০" উদ্যোগ অনুসরণের সুপারিশ করেছে। উত্তরণের পর রপ্তানিকারকদের আর নগদ প্রণোদনা দেওয়া যাবে না, এই অবস্থায় প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতে এসব সুপারিশ করা হয়েছে, যা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড দেখেছে।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া "মেইড ইন চায়না ২০২৫" কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল—দেশটির উৎপাদন খাত আধুনিকীকরণ, বিদেশি প্রযুক্তিনির্ভরতা কমানো এবং হাইটেক শিল্পে বৈশ্বিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এতে স্বল্পসুদের ঋণ, সুবিধাজনক করহার, ভর্তুকিযুক্ত জমি, ছাড়কৃত মূল্যে ইস্পাত সরবরাহ এবং স্বল্পমূল্যের ইউটিলিটি সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়া ২০১৮ সালে "মেকিং ইন্দোনেশিয়া ৪.০" রোডম্যাপ চালুর মাধ্যমে অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল ম্যানুফ্যাকচারিং উন্নয়নের ওপর জোর দেয়—নিয়মকানুন সহজীকরণ, শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং লজিস্টিকস সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে।
কমিটি বলছে, চীন ও ইন্দোনেশিয়াকে অনুসরণ করে বাংলাদেশ সরকারও এ ধরণের উদ্যোগ নিয়ে মূল্য সংযোজন, প্রযুক্তি আমদানি ও স্থানান্তর, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (ফোরআইআর) গ্রহণ ও ব্যবহার, নতুন পণ্যের উদ্ভাবনের বিপরীতে আর্থিক ভর্তুকি দেওয়া, গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়ের বিপরীতে কর সুবিধা দিতে পারে।
এছাড়া, উচ্চ প্রযুক্তির সংস্থাগুলোর জন্য নিম্ন করহার আরোপ করা এবং সার্ভিসড ল্যান্ড বরাদ্দসহ বিভিন্ন ধরণের সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও ওষুধশিল্পের মতো রপ্তানি খাতগুলোকে নগদ সহায়তার বদলে উৎপাদনশীলতা–ভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) 'সাবসিডি অ্যান্ড কাউন্টারভেইলিং মেজারস' চুক্তি এবং ভারত, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও চীনের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে— কমিটি খাতগুলোকে নগদ প্রণোদনার বিকল্প হিসেবে ডব্লিউটিও-সম্মত এসব সুবিধা দেওয়ার নীতি-সুপারিশ করেছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাস্তবতা ও প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করে অন্য যেকোন উপযুক্ত সুবিধা প্রদানে পদক্ষেপ নিতে গত ২০ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে ১৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়; যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, কৃষি সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর শীর্ষ নির্বাহীরা রয়েছেন।
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পরিকল্পনা
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) গত মাসের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা রয়েছে, এবং উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের তিনটি মানদণ্ডই পূরণ করেছে।
এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা নিষিদ্ধ হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে তা ধীরে ধীরে কমানো শুরু করেছে। বর্তমানে ৪৩টি খাত রপ্তানির বিপরীতে যে নগদ প্রণোদনা পাচ্ছে, আগামী জানুয়ারিতে তার অর্ধেক এবং আগামী জুলাই থেকে পুরোটাই প্রত্যাহার করে নেবে সরকার। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ও জুলাইয়ে রপ্তানি প্রণোদনা কমানো হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে রপ্তানি প্রণোদনায় মোট বরাদ্দ রয়েছে মোট ৯,০২৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের মূল বাজেট ও সংশোধিত বাজেটেও রপ্তানি প্রণোদনায় একই পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এখাতে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৮,১৯৮ কোটি টাকা।
এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশও বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করে 'স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্যাটেজি' (এটিএস) বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তবে এটি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ অবকাঠামো দুর্বলতা, ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায়—ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদরা এলডিসি গ্রাজুয়েশন তিন বছর পেছানোর অনুরোধ করলেও সরকার গ্রাজুয়েশনের সময় পেছাতে জাতিসংঘে আবেদন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সিডিপির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, ২০২৯ সালের পর যাতে বাংলাদেশের রপ্তানি ব্যাহত না হয়, সেজন্য এসটিএস বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও তৎপরবর্তী রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইত্যাদি কারণে এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এসটিএস বাস্তবায়নে অতিরিক্ত তিন বছর সময় পেলে তা 'যৌক্তিক হতো'।
বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ চৌধুরী বলেছেন, এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পরও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তুরস্ক, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও জাপান বাংলাদেশকে তিন বছর জিএসপি সুবিধা দেবে। এসব বাজারে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির ৯৩ শতাংশ হয়ে থাকে। তাই ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশন হলেও ২০২৯ সাল পর্যন্ত দেশের রপ্তানি তেমন একটা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই।
চামড়া শিল্পে স্বল্পসুদের ঋণ, শুল্ক কমানোর প্রস্তাব
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে এখাতে স্বল্পসুদে ঋণ বিতরণের সুপারিশ করে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বলেছে, এই সুদহার ব্যাংক রেট +২.৫ শতাংশ হতে পারে। এছাড়া, ট্যানারি শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরণের ক্যামিকেল আমদানিতে ৩৫ শতাংশ হারে বিভিন্ন ধরণের শুল্ককর রয়েছে, যা কমিয়ে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া, এ শিল্পের জন্য এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা বিদ্যমান ২৫ হাজার ডলার থেকে যৌক্তিক হারে বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি।
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি বলেছে, ব্যবসায়ী ও সরকার যৌথভাবে চামড়া শিল্পের জন্য একটি কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার স্থাপন করতে পারে। চামড়ার প্রক্রিয়াজাত করার খরচ কমাতে কয়েকটি কারখানা মিলে ১০ হাজার বর্গফুটের ক্রোম রিকভারি প্ল্যান্ট স্থাপনেরও সুপারিশ করে কমিটি, এক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া যেতে পারে।
ঈদুল আজহার সময় পাওয়া প্রায় এক কোটি পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিকের প্রয়োজন হয় জানিয়ে কমিটি বলেছে, এসব কেমিক্যাল আমদানির ক্ষেত্রে হোম–কনজাম্পশন বন্ডের মাধ্যমে ডিউটি–ফ্রি সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
ভিয়েতনাম ও চীনের মডেল অনুসরণ করে ভ্যালু–ইন/ভ্যালু–আউট ব্যবস্থায় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা চালুর সুপারিশ করেছে কমিটি—যার ফলে কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা সম্ভব হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের সুবিধার্থে কমন বন্ডেড ওয়্যারহাউস গড়ার পরামর্শও রাখা হয়েছে।
কৃষকের কাছ থেকে পাট কেনার ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ সোর্স ট্যাক্স প্রত্যাহার হচ্ছে
কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পাট কেনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ১ শতাংশ উৎসে করের কারণে পাটজাতপণ্যের উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে জানিয়ে তা প্রত্যাহার করতে সুপারিশ করেছে কমিটি। এটি প্রত্যাহার করা হলে কর আদায়ে তার নেতিবাচক প্রভাব খুব সামান্য হবে জানিয়ে কমিটি বলেছে, তবে এতে পাটপণ্যের উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকরা লাভবান হবেন।
ভারত বাংলাদেশি পাটপণ্যের উপর এন্টি-ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করলেও প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচা পাট আমদানি করছে জানিয়ে কমিটি বলেছে, কাঁচা পাট রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে রপ্তানির উপর ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশ শুল্কারোপ করা যেতে পারে। এতে ভারতে বাংলাদেশি পাটপণ্যের চাহিদা বাড়বে এবং শুল্ক আয়ও বাড়বে।
উন্নতজাতের পাটবীজ উৎপাদন বাড়িয়ে তা স্বল্পমূল্যে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করার সুপারিশ করে কমিটি বলেছে, বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদনে প্রয়োজনীয় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে প্রয়োজনীয় অর্থের অংশবিশেষ সরকার বহন করতে পারে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।
এছাড়া, বৈচিত্রকৃত পাটপণ্যের জন্য আবশ্যিক রঙ এবং বিভিন্ন রাসায়নিক আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা দেওয়া এবং পাটখাতে স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য জুট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের সুপারিশ করেছে।
কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে হিমাগারে হ্রাসকৃত মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুপারিশ
দেশে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফলন পরবর্তী ক্ষতি কমানো এবং কৃষিপণ্যের শেলফ লাইফ বাড়ানোসহ রপ্তানি বাড়াতে মাল্টি টেম্পারেচার হিমাগার সুবিধা স্থাপন করার ওপর জোর দিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি বলেছে, এসব হিমাগার হয় সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করতে হবে, না হয় স্বল্প সুদে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে বেসরকারিখাতকে উৎসাহিত করতে হবে এবং হিমাগারে হ্রাসকৃত মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যেতে পারে।
রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য পরিবহনে রিফার ভ্যান, বন্দরভিত্তিক রেফ্রিজারেটেড ওয়্যারহাউস, ইলেকট্রনিক ডেটা লগার এবং টাইম–টেম্পারেচার ইন্ডিকেটর ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
'প্রকিওরমেন্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সাপোর্ট' স্কিমের আওতায়, আন্তর্জাতিক খাদ্যমেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের ভ্রমণ খরচে সহায়তা দেয় ভারত সরকার। আবার ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে বিক্রিতেও আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। ভারতের মতো একই ধরণের সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করতে বলেছে কমিটি।
কমিটি বলেছে, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে যেসব টেস্টের দরকার হয়, তা বাংলাদেশে করা যায় না। কিছু টেস্ট বাংলাদেশে করা গেলেও তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই দেশের ভেতরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সরকারি টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের সুপারিশ করেছে তারা।
ওষুধশিল্প: প্রি-ফাইন্যান্সিং সীমা বাড়ানো, এপিআই পার্ক দ্রুত সম্পন্ন করা
পুঁজি–নিবিড় ওষুধশিল্পের জন্য এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি–ফাইন্যান্সিং স্কিমের সীমা বিদ্যমান ৫ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ কোটি টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করেছে কমিটি।
গ্যাস না থাকার কারণে ২০০৮ সালে কাজ শুরু করা মুন্সিগঞ্জের এপিআই পার্কের কারখানাগুলো উৎপাদন করতে পারছে না জানিয়ে কমিটি বলেছে, এই পার্কের কাজ দ্রুত শেষ করে গ্যাসসহ অন্যান্য ইউটিলিটি সরবরাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
এখাতের এপিআই সরবরাহকারী উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আওতাভূক্ত করার সুপারিশ করে কমিটি বলেছে, এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের আকার ২ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার কোটি টাকা করা যেতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়াতে এ ধরণের স্কিম রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।
নিয়ন্ত্রিত বাজারে প্রবেশের জন্য দেশেই বায়ো–ইকুইভ্যালেন্স ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনায় সক্ষম কনট্রাক্ট রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে এসব পরীক্ষার জন্য ব্যয়বহুল বিদেশি ল্যাবগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রত্যায়িত, কিন্তু এপিআই নমুনা পরীক্ষা করতে পারে না। এপিআই নমুনা পরীক্ষার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরি টেস্টিং সরঞ্জাম কেনার জন্য বাজেট সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশি উৎপাদনকারীরা দেশেই এপিআই নমুনা পরীক্ষা করতে পারলে ব্যয় হ্রাস পাবে, গ্রাহকের আস্থা বাড়বে এবং বিশ্বব্যাপী এ শিল্পের অবস্থান বাড়বে।
এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর পেটেন্টকৃত ওষুধ বাংলাদেশ উৎপাদন করতে পারবে না। তাই এখন থেকেই ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি।
