নির্বাচনের দিন যারা গণভোট করতে চান তাদের উদ্দেশ্য জুলাই সনদকে অকার্যকর করা: গোলাম পরওয়ার
জাতীয় নির্বাচনের দিন যারা গণভোট যারা করতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য জুলাই সনদকে অকার্যকর করা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, 'একই দিনে গণভোট যারা করতে চাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য হলো জুলাই সনদকে অকার্যকর করা।'
আজ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। এ সময় জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'আমরা শুনতে পাচ্ছি একটি দলকে খুশি করার জন্য সরকারের অভ্যন্তরের কেউ কেউ গণভোটকে উপেক্ষা করে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের প্রহসনের পাঁয়তারা করছেন। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে জুলাই সনদের (মাধ্যমে) বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তন করে রাষ্ট্র সংস্কারের যে ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে, একই দিনে গণভোট যারা চাচ্ছেন, তারা (সেই) জুলাই সনদকে অকার্যকর করতে চান।'
এর আগে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দেয় জামায়াতে ইসলামী।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল এ বৈঠকে অংশ নেয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দলটি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ১৮ দফা দাবি পেশ করেছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, 'নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হবে। আমরা বলেছি, জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে। কারণ, জাতীয় সনদে বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সংস্কার বিষয়ে জাতিকে জানাতে হবে। জনগণ এসব বিষয়ে অবগত না থাকলে কীভাবে ভোট দেবে?'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা প্রস্তাব করেছি, সংস্কার ও জাতীয় সনদের বিষয়গুলো ইসি জনসমক্ষে প্রকাশ করবে, ওয়েবসাইটে দেবে, যাতে জনগণ জানতে পারে। একই দিনে ভোট হলে সহিংসতার আশঙ্কা থাকে, ফলে গণভোটও ব্যাহত হতে পারে।'
এদিকে, নির্বাচনী জোট হলেও প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিধান যুক্ত করে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
