গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন না রিটার্নিং কর্মকর্তারা: ইসি মাছউদ
আসন্ন গণভোটে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোটের কোনো প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আবদুর রহমানেল মাছউদ।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'রিটার্নিং অফিসার কোনোভাবেই 'হ্যাঁ' বা 'না'-এর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তাদের নিরপেক্ষ থাকতে হবে। এটা স্ট্রিক্টলি মানতে হবে।'
বর্তমানে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরা গণভোট নিয়ে সরব হয়ে 'হ্যাঁ'-এর পক্ষে ভোট চাইছেন। অথচ এ গণভোটে কোনো রাজনৈতিক দল নেই, কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী নেই এবং গণভোটের জন্য আলাদা কোনো আচরণবিধিও প্রণয়ন করা হয়নি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা একটি ব্যালট পেপারে সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক দেখে ভোট দেবেন। অন্য আরেকটি ব্যালট পেপারে চারটি বিষয়ের ওপর 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিয়ে তাদের মতামত জানাবেন।
এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পরিচালনায় ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের এসব দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা ২২ জানুয়ারি শুরু হয়ে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হবে। অর্থাৎ ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচারণার সুযোগ থাকবে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়ায় নির্বাচনি অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি সংসদ নির্বাচনের মূল আইন 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ' (আরপিও) অনুযায়ী পরিচালিত হবে। গণভোট অধ্যাদেশের (অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি) ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে যেসব কাজ অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কাজ গণভোটের ক্ষেত্রেও অপরাধ ও লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইতোমধ্যে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে এক প্রার্থী গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালানোয় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ টিবিএসকে বলেন, 'আমি মনে করি, আচরণবিধি সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও দলের জন্য। গণভোটে কোনো প্রার্থী নেই, কোনো রাজনৈতিক দল নেই। তারপরও আমরা বলব, নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে ২১ জানুয়ারির আগে প্রকাশ্যে 'হ্যাঁ' বা 'না' প্রচারণা না করাটাই সমীচীন।'
সরকারের পক্ষ থেকে 'হ্যাঁ' ভোটের প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এতে কোনো নীতিগত বাধা দেখছেন না এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, 'সরকার অনেক কষ্ট করে সংস্কারের কাজ করেছে দেশের ও ভবিষ্যতের স্বার্থে। বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বহুদিন আলোচনা করে জুলাই সনদ করা হয়েছে। সে কারণে সরকার যদি বিষয়টি উপস্থাপন করে, আমি সেটাকে অসঙ্গত মনে করি না।'
