ইসির আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪১ জন, মোট সংখ্যা ১৫০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) করা আপিলের শুনানির তৃতীয় দিনে ৪১ জন প্রার্থী প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এতে তিন দিনে মোট ১৫০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে ফিরলেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুনানিতে আরও চার কমিশনার উপস্থিত ছিলেন। নির্ধারিত ৭০টি শুনানির বাইরে একটি আপিলসহ মোট ৭১টি আপিলের শুনানি হয়।
দিনব্যাপী শুনানি শেষে ইসির জনসংযোগ অধিশাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিকের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তৃতীয় দিনের শুনানিতে মোট আবেদনের মধ্যে ৪১টি আবেদন গৃহীত, ২৪টি আবেদন বাতিল এবং চারটি আবেদন অপেক্ষমাণ (পেন্ডিং) রাখা হয়েছে।
শুনানির তৃতীয় দিনে দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে চট্টগ্রাম–৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একে এম ফজলুল হকের বাতিল হওয়া প্রার্থিতা আপিলেও ফিরে আসেনি। এ ছাড়া ঋণখেলাপিসহ বিভিন্ন কারণে আরও ২৩ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলই রয়েছে।
শুনানি শেষে একে এম ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের জন্য আবেদন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস তাকে সাক্ষাতের সময়ও দিয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আপিলে বিষয়টি উপস্থাপন করলেও নির্বাচন কমিশন তার আবেদন গ্রহণ করেনি।
নারায়ণগঞ্জ–১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলালের আপিল আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। ওই তালিকা থেকে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ১০ জন ভোটার যাচাই করা হলে ৮ জন জানান, তারা স্বাক্ষর করেননি। বাকি দুজনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
এ সময় মোহাম্মদ দুলাল বলেন, যে ১০ জনের নাম যাচাইয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাদের নাম প্রতিপক্ষ প্রার্থী আগেই জেনে যায়। 'এরপর প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন তাদের ভয়ভীতি দেখান, যেন তারা স্বাক্ষরের বিষয়টি অস্বীকার করেন। ভয় পাওয়ার কারণেই যাচাইয়ের সময় ভোটাররা স্বাক্ষরের কথা অস্বীকার করেছেন,' বলেন তিনি।
ময়মনসিংহ–৪ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী মো. হামিদুল ইসলামের ১১ জানুয়ারি করা অপেক্ষমাণ আপিল আবেদনও গৃহীত হয়েছে। তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তাদের দলের ২১ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর হয়েছে এবং আরও প্রায় ১০টি আবেদন পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে।
অপেক্ষমাণ আপিল
তৃতীয় দিনের শুনানিতে অপেক্ষমাণ রাখা আপিলগুলোর মধ্যে রয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের ফাতেমা আক্তার (টাঙ্গাইল–৫), বিএনপির মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী (শেরপুর–২), লেবার পার্টির মোহাম্মদ রাশেদুল হক (ঢাকা–১৭) এবং মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ (চট্টগ্রাম–৫)।
কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের করা বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বাতিলের আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এ সময় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের দাবির ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র আবশ্যক। তবে এক শতাংশ ভোটার সমর্থনের শর্তে স্বতন্ত্র ও তরুণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা শেষে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ৬৪৫টি আপিল দায়ের হয়েছে। এসব আপিলের শুনানি ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ প্রকাশ করা হবে ২১ জানুয়ারি। প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
