এইচ-১বি ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়িতে দক্ষ কর্মীদের নজর এখন কানাডায়
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষ কর্মীদের জন্য জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসার ফি বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রযুক্তি খাতসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কানাডাকে সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নিজেদের দরজা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন আইনজীবী ও ব্যবসায়িক বিশেষজ্ঞরা।
তবে কেউ কেউ বলছেন, কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থাতেও রয়েছে নিজস্ব চ্যালেঞ্জ।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই নীতি পরিবর্তনের ফলে যেসব দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রবিমুখ হচ্ছেন, তাদের টানতে আগ্রহী কানাডাও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সম্প্রতি নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি বদলের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'আপনারা ভিসা নীতি বদলাচ্ছেন শুনেছি। হয়তো এবার আমরা আমাদের প্রতিভাবানদের এক-দুজনকে ধরে রাখতে পারব।'
গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন এইচ-১বি আবেদনের জন্য ফি এক লাখ ডলার নির্ধারণের ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্তে প্রযুক্তি সংস্থাগুলো বেশ অবাক হয়েছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি কর্মী নিয়োগে তারা এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি ভিসাধারীরা এতে প্রভাবিত হবেন না। তবে এই পরিবর্তনে উচ্চশিক্ষিত বিদেশি চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ সীমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে মোট এইচ-১বি আবেদনকারীদের মধ্যে ১ শতাংশ ছিলেন কানাডার নাগরিক।
এই পরিস্থিতিতে কানাডার সামনে নতুন এক দুয়ার খুলছে বলে মনে করছেন অনেকে। কানাডাভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী ইভান গ্রিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ হারানো কর্মীরা এখন অন্য দেশের দিকে তাকাচ্ছেন। এটি 'কানাডা সরকারের জন্য একটি চমৎকার সুযোগ'।
দেশটির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপকারী একটি অলাভজনক সংস্থা 'বিল্ড কানাডা' সোমবার এক স্মারকলিপিতে কানাডাকে 'দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার' আহ্বান জানায়। তাদের যুক্তি, এইচ-১বি ভিসার পরিবর্তনে পিছিয়ে পড়া কর্মীদের জন্য কানাডা একটি সম্ভাব্য গন্তব্য হতে পারে।
এক স্মারকলিপিতে তারা বলেছে, 'কয়েক লাখ উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী এখন নতুন ঠিকানা খুঁজছেন। বিশ্বমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নত জীবনযাত্রা আর যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি হওয়ায় কানাডাই তাদের জন্য স্বাভাবিক পছন্দ হতে পারে।'
অতীতেও এমন নজির দেখা গেছে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের ২০২০ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যখনই দক্ষ কর্মীদের অভিবাসন নীতি কঠিন করেছে, বহুজাতিক সংস্থাগুলো প্রতিভা ধরে রাখতে কানাডা, ভারত বা চীনের দিকে ঝুঁকেছে।
এইচ-১বি ভিসাধারীরা যে কানাডাকে বিকল্প ভাবছেন, তার সাম্প্রতিক প্রমাণও রয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্য কানাডা একটি ওয়ার্ক পারমিট কর্মসূচি চালু করে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১০ হাজার আবেদন জমা পড়ায় তা বন্ধ করে দিতে হয়।
তবে কানাডায় গেলেই যে সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে, তা নয়। আইনজীবী মার্ক হোলথে বলেন, তার অনেক মক্কেল কানাডায় এলেও এখন স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে সমস্যায় পড়ছেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অর্থনীতিবিদ মাইকেল স্কুটারুডও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, 'কানাডার সম্ভাবনা আছে, তবে তাকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।' তার মতে, কানাডাও সম্প্রতি অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়েছে এবং সেখানে বিদেশি কর্মী কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। তিনি আরও বলেন, কানাডার বেতন কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের মতো নয়, এখানকার গড় মজুরি তুলনামূলকভাবে কম।
এ বিষয়ে কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ববিষয়ক দপ্তরের (আইআরসিসি) মুখপাত্র ম্যাথিউ ক্রুপোভিচ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানান, এক্সপ্রেস এন্ট্রি ও গ্লোবাল স্কিলস স্ট্র্যাটেজির মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মীদের কানাডায় আনার সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, আইআরসিসি 'বিশ্বের সেরা এবং মেধাবীদের আকর্ষণ করার জন্য নতুন নতুন সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।'
