নাভি পিল্লাইকে নোবেল: ‘কমিটি নিজেকে অপূরণীয়ভাবে কলঙ্কিত করেছে’—ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প
দীর্ঘদিন ধরে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রচার চালিয়ে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। ওই পোস্টে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সমালোচনা করা হয়েছে এবং এ বছরের বিজয়ী দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার আইনজীবী নাভি পিল্লাইকে 'আমেরিকা ও ইসরায়েলের নির্লজ্জ বিদ্বেষী' বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টটি রিশেয়ার করেন। এতে বলা হয়, জাতিসংঘের নাভি পিল্লাইকে পুরস্কার দিয়ে 'নোবেল কমিটি নিজেকে অপূরণীয়ভাবে কলঙ্কিত করেছে এবং একসময়ের মহান শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে'।
পোস্টে অভিযোগ করা হয়, জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়ে পিল্লাই 'সন্ত্রাসীদের উদ্যাপন করেছেন এবং হামাসকে পুরস্কৃত করেছেন'। ওই কমিশন একটি 'ভুয়া তদন্তের' মাধ্যমে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, এমন অভিযোগও করা হয় পোস্টে।
ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপের একটি তালিকাও পোস্টে তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস—ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সম্পাদিত চুক্তি। এ ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে তাঁর 'সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা' এবং 'আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে থামানোর' প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়।
শুক্রবার সকালে জার্মানির নুরেমবার্গ কোর্টে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সময় নাভি পিল্লাই তার নোবেল জয়ের খবর জানতে পারেন। তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সহকর্মীরা হাততালি দিলে ট্রাম্পের নোবেল পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রসিকতা করেন তিনি।
পিল্লাই বলেন, 'আপনারা যদি আরেকটু বেশি হাততালি দেন, তাহলে আমি এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।' তার এ মন্তব্যে উপস্থিত ব্যক্তিরা হাসিতে ফেটে পড়েন।
এর আগে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোও নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, একবার পুরস্কার দেওয়া হয়ে গেলে তা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
নাভি পিল্লাই একজন মানবাধিকার আইনজীবী এবং জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার সকালে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ঘোষণা করে। কমিটি জানায়, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলাকে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ থেকে শুরু করে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও কমিটির বিবেচনায় ছিল। আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত একটি মামলায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পিল্লাই।
জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছিলেন তিনি। গত বছর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওই কমিশন সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।
শুক্রবার সকালে পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের ঘোষণার পরপরই এর নিন্দা জানায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টি বলে, 'মিথ্যা, ঘৃণা ও রক্তের অপবাদের জন্য যদি কোনো পুরস্কার থাকত, তাহলে নাভি পিল্লাই শুধু একজন প্রতিযোগীই হতেন না, তিনি থাকতেন সবার এগিয়ে।'
নোবেল কমিটির বিরুদ্ধে 'ইসরায়েলবিরোধী ঘৃণা ও বিদ্বেষকে বৈধতা দিতে একটি পুরস্কারকে জঘন্যভাবে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার' অভিযোগও তোলে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পুরস্কার জয়ের পর পিল্লাই 'আন্তর্জাতিক অপরাধের শিকার সব মানুষের' পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের উদ্দেশে পুরস্কারটি উৎসর্গ করেন।
