ব্রাজিলের নির্বাচন: প্রথম রাউন্ডে জিতলেন বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ছেলে, ভোটাভুটি যাচ্ছে রান-অফে
প্রথম দফার ভোটে কট্টর ডানপন্থি সিনেটর ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র ফ্লাভিও বলসোনারো চমকপ্রদ জয় পাওয়ার পর রান-অফের (দ্বিতীয় দফার ভোট) দিকে এগোচ্ছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রোববার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই সরাসরি জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাননি। ফলে আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোটে বর্তমান বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডা সিলভার মুখোমুখি হবেন ফ্লাভিও।
৪৫ বছর বয়সি ফ্লাভিওর বাবা, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো বর্তমানে কারাবন্দি। ভোটের আগের জনমত জরিপে লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত থাকলেও, শেষপর্যন্ত লুলার চেয়ে এগিয়ে থেকেই প্রথম রাউন্ড শেষ করলেন ফ্লাভিও। রান-অফ নির্বাচন দেশের অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্যই ভোটদান বাধ্যতামূলক। লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিলেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়ে।
এ নির্বাচনের প্রভাব কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের অবস্থান কেমন হবে, তা-ও নির্ধারণ করবে এই ভোট।
লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ও অর্থনীতি ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল বলয়ের দিকে ঝুঁকবে, নাকি লুলার বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিই অব্যাহত থাকবে—তা নির্ধারণ করে দিতে পারে এই নির্বাচনের ফলাফল।
৮০ বছর বয়সি লুলা চতুর্থ এবং সম্ভবত শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের শাসনভার সামলেছেন। এরপর ২০২৩ সালে তার অসাধারণ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন ঘটে। দুর্নীতির দায়ে ৫৮০ দিন কারাগারে কাটানোর পর ২০২১ সালে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট লুলার শাস্তি বাতিল করে তার রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়। এরপর ২০২২ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন লুলা।
শনিবার পর্যন্ত হওয়া জনমত জরিপগুলোতে ফ্লাভিওর চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন লুলা। বাবার তৈরি রাজনৈতিক ভিতের ওপর ভর করেই এগোতে চাইছেন ফ্লাভিও। স্বাস্থ্যগত কারণে জইর বোলসোনারো বর্তমানে মানবিক বিবেচনায় গৃহবন্দি রয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে হারের পর পরাজয় উল্টে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অভ্যুত্থানের চেষ্টায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার নির্বাচনে লড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববারের ভোটগণনায় লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছেন বাকি চার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী। প্রথম রাউন্ড থেকে ছিটকে যাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে আছেন মধ্যপন্থি মনরোগ বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রিয় লেখক অগাস্তো কুরি, গইয়াসের সাবেক ডানপন্থি গভর্নর রোনালদো কায়াদো, মুভিমেন্তু ব্রাসিল লিব্রে-র প্রতিষ্ঠাতা ও মিসাঁও দলের প্রার্থী রেনান সান্তোস এবং মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও আর্থিক উদারনীতিতে বিশ্বাসী ডানপন্থি রোমেউ জেমা।
বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের অবস্থান: দুই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি
লুলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে বহুপাক্ষিক কূটনীতির পক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছেন।
ব্রাজিলের সরকারি বাণিজ্য পরিসংখ্যানে এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট। ২০০৯ সাল থেকেই ব্রাজিলের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার চীন। তবে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর ব্রাজিলের রপ্তানি বাজারে চীনের প্রাধান্য আরও অনেক বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক নীতির জেরে ট্রাম্পের সঙ্গে লুলার সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। আর এই দ্বন্দ্বই নির্বাচনে লুলার সামনে আরেকটি বড় প্রচারণার সুযোগ এনে দেয়—ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষা।
উত্তেজনার প্রথম সূত্রপাত ঘটে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে। সে সময় ট্রাম্প বেশ কিছু ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেন। তার প্রশাসন দাবি করেছিল, জইর বলসোনারোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হেনস্তা ও বিচার করা হচ্ছে। পরে অবশ্য নভেম্বরে এই শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্টের আরেক ছেলে এদুয়ার্দো বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাবার পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে লবিং শুরু করেন। শুরুতে ট্রাম্পের দেওয়া চাপের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু মার্কিন শুল্কের চাপে ব্রাজিলের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তার সেই দম্ভ শেষপর্যন্ত ভাই ফ্লাভিওর নির্বাচনি প্রচারণাকে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত করে।
চলতি গ্রীষ্মে ব্রাজিলের নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক চাপালে বাণিজ্য সংঘাত ফের মাথাচাড়া দেয়। সেই শুল্ক এখনও বহাল রয়েছে।
এসব পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন লুলা। তবে সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চলমান থাকায় তিনি এখনই কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই টানাপোড়েন ডানঘেঁষা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের মধ্যে প্রভাব ফেলেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের শুল্কারোপ ও ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অন্যান্য চেষ্টা দিনশেষে লুলার অবস্থানকেই শক্ত করেছে।
এই বিভেদ অন্যান্য বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে লুলা ভাষণ দেওয়ার দুদিন পর, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বক্তৃতা শুরু করতেই বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভাকক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন ব্রাজিলের কূটনীতিকেরাও।
ঠিক উল্টো পথে হেঁটেছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ট্রাম্প, নেতানিয়াহুর মতো যেসব আন্তর্জাতিক নেতার সঙ্গে লুলার বিরোধ রয়েছে, তাদের সঙ্গেই ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন তিনি।
জুলাইয়ে ফ্লাভিওর নির্বাচনি প্রচার শুরুর সময় ভিডিও বার্তায় তাকে সমর্থন জানান নেতানিয়াহু। মে মাসে ওয়াশিংটনে ওভাল অফিসে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্লাভিও। সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, আমদানি শুল্ক ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিনই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
বলসোনারো পরিবারের দীর্ঘদিনের মিত্র ও আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই জুলাইয়ে ফ্লাভিওর প্রচারণায় অংশ নিতে ব্রাজিল সফর করেন। সেখানে তিনি লুলাকে 'দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী' এবং তার সরকারকে 'চোর সমাজতন্ত্রী' বলে আখ্যা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ব্রাজিল সরকার বুয়েনস এইরেস থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।
কিছু হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনের হাত ধরে সামগ্রিকভাবে গোটা লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক মানচিত্রই এখন ডানপন্থার দিকে ঝুঁকছে। জুনে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে জেতেন কট্টর ডানপন্থি আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। কয়েক সপ্তাহ পর পেরুর রান-অফ নির্বাচনে মাত্র ০.১ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জেতেন কেইকো ফুজিমোরি।
গুরুত্ব পাচ্ছে অপরাধ ও জীবনযাত্রার ব্যয়
তবে ব্রাজিলীয় ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক উইন্টার বলেন, 'লাতিন আমেরিকায় গত ১৬টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মধ্যে ১৩টিতেই ডানপন্থিদের জয়ের পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল নিরাপত্তা ও অপরাধের ইস্যু।'
তিনি আরও বলেন, গত এক দশকে ব্রাজিলে হত্যাকাণ্ডের হার কমলেও ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের মতো অপরাধগুলোর কারণে সাধারণ ব্রাজিলীয়রা এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।
বাবার মতোই ফ্লাভিও তার প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছেন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানকে। তিনি শীর্ষ অপরাধী চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা, নতুন ফেডারেল কারাগার নির্মাণ ও অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তির বয়সসীমা কমিয়ে ১৬ বছরে নামিয়ে আনার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।
মে মাসে ওয়াশিংটন সফরকালে ফ্লাভিও ব্রাজিলের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। এর কয়েক দিন পরই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করে, জুন থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
লুলার সরকার অবশ্য এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা সতর্ক করে দিয়ে জানায়, ব্রাজিলের অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদের একটি কাঠামো প্রয়োগ করা শেষপর্যন্ত বিদেশি হস্তক্ষেপের অজুহাত হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতির শ্লথ গতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ধাক্কায় এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছেন ব্রাজিলের নাগরিকেরা। সরকারি পরিসংখ্যানে বেকারত্বের হার কম এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকার ছবি তুলে ধরলেও, পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে মানুষের ধারণা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রায়ান উইন্টার বলেন, 'অর্থনীতি হয়তো ঠিকঠাক চলছে, কিন্তু মানুষের মনে হচ্ছে তাদের আয়ে আর আগের মতো সংসার চলছে না। সরকারি পরিসংখ্যান মাঝে মাঝে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরলেও মানুষ মনে করছে তাদের জীবনযাত্রার মান কমে গেছে।'
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে এসব উদ্বেগ লুলার অতীতের সাফল্যের ওপর কালো ছায়া ফেলছে। ব্রাজিলের এই নেতার নাম দেশে সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তার প্রথম দুই মেয়াদে অর্থনীতিতে বড় উল্লম্ফন ঘটেছিল, যার সুফল এই সামাজিক উন্নতিতে প্রতিফলিত হয়েছিল।
কিন্তু এবার অনেক ভোটারই সেই আগের মতো উন্নতি অনুভব করতে পারছেন না।
ব্রাজিলের গত দুটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোটের চিত্র বেশ আলাদা। ২০১৮ সালে মন্দা, অপরাধ ও ব্যাপক দুর্নীতি দমন অভিযানের প্রেক্ষাপটে বলসোনারো ক্ষমতায় এসেছিলেন। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে শুরু হওয়া তদন্তে সব মতের রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা ফেঁসে গিয়েছিলেন। এর ফলে লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
২০২২ সালে মহামারি মোকাবিলায় বলসোনারোর পদক্ষেপের সমালোচনা ও দেশের গণতন্ত্র নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে লুলা অল্প ব্যবধানে বলসোনারোকে পরাজিত করেছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের তেমন একটা আগ্রহ নেই। এর মূল কারণ পদ্ধতিগত দুর্নীতি নিয়ে তৈরি হওয়া গভীর হতাশা। দুর্নীতি ভোটারদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলেও, কোনো পক্ষই এককভাবে এই ইস্যুটিকে নিজেদের বলে দাবি করতে পারছে না।
ব্রাজিলের ব্যাংক বাঙ্কো মাস্টার-এর পতন এবং এর সাবেক প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল ভোরকারোকে ঘিরে চলা তদন্তে কয়েক মাস ধরেই উত্তাল রাজধানী ব্রাসিলিয়া। ব্রাজিলের রাজনৈতিক, আর্থিক ও বিচারিক প্রশাসনের সর্বত্রই ভোরকারোর শক্তিশালী যোগাযোগ ছিল।
বলসোনারো মতাদর্শের অন্যতম প্রধান বিরোধী হিসেবে পরিচিত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রা ডি মোরেস এই কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণে পরিচালিত তদন্তে মোরেসের ভূমিকা ছিল। এ কারণে বলসোনারো সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই তাকে লুলার মিত্র হিসেবে চিত্রিত করে আসছেন।
নির্বাচনি প্রচারণার সময় ফ্লাভিও বলসোনারো এই ইস্যুটিকে লুফে নেন। অভিযোগ ওঠে, বাঙ্কো মাস্টারকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে ড্যানিয়েল ভোরকারোকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিচারপতি মোরেস। আদালত এই অভিযোগের তদন্ত করবে কি না, তা নিয়ে বিচার-বিবেচনা শুরু করলে ফ্লাভিও বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আনেন।
বিশ্লেষক উইন্টারের মতে, এই কেলেঙ্কারি কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার বদলে বরং পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অসন্তোষকে আরও উসকে দিচ্ছে।
