পাইলটকে ছুরিকাঘাতের পর ইসরায়েলগামী ফ্লাইট বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছিলেন কো-পাইলট; ঠেকিয়ে দেন যাত্রী ও ক্রুরা
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার সহকারী পাইলটের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন যাত্রী ও ক্রুরা। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট প্রথমে মূল পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর উড়োজাহাজটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়।
কর্মকর্তারা জানান, যাত্রী ও ক্রুরা ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে প্রতিহত করার পর বিমানে থাকা অপর দুই পাইলট উড়োজাহাজটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান। পরে অন্য একটি ফ্লাইটে করে ১৭৪ জন আরোহীকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়।
উদ্ধার পাওয়া লিতাল শাচাফ নামের এক যাত্রী বলেন, 'আমি কেবল বলতে পারি, এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ ও পাগলাটে ছিল। আমরা বেঁচে ফিরেছি বলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভাবতেই পারিনি রক্ষা পাব, তবে ঈশ্বরের কৃপায় আমরা ইসরায়েলে নিজের ঘরে ফিরে আসতে পেরেছি।'
ইসরায়েলের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনায় আহত ৫১ বছর বয়সি এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার আঘাত গুরুতর নয়।
ঘটনাটিকে 'একটি গুরুতর নিরাপত্তা ঘটনা' হিসেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, আটক সহকারী পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষ জিজ্ঞাসাবাদ করবে।
এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, হামলাকারী সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওমানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে 'আগেভাগে কোনো ধারণা' না করার আহ্বান জানিয়েছে ফ্লাইদুবাই।
এ ঘটনার পর দেশটিতে আসা সব বিমানের পাইলটদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে ওই হামলার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন।
ফ্লাইদুবাই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তাই 'আগেভাগে কোনো ধারণা' না করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ওমানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যাত্রীদের প্রতিরোধেই এড়ানো গেল বড় দুর্ঘটনা
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা যাত্রীদের প্রশংসা করে বলেছেন, তাদের প্রতিরোধের কারণে আরও বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। নেতানিয়াহু জানান, দুবাই থেকে আসা ওই ফ্লাইটে ১৭৪ জন ছিলেন; যাদের বেশিরভাগই ইসরায়েলের নাগরিক।
নেতানিয়াহুর মুখপাত্র রয়টার্সকে জানান, আহত মূল পাইলট স্মিত মাচ্ছার ভারতীয় নাগরিক। রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা পাইলটই ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর ককপিটে ঢুকে যাত্রীরা সহকারী পাইলটকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলে আঘাত করতে দেখেন।
সহকারী পাইলটকে আটকাতে সহায়তা করা যাত্রী আসাফ রাজুয়ান বলেন, 'এটি এমন কিছু, যা আপনি না ভেবেই করে ফেলেন। শুধু নিজের মেয়ে ও পরিবারের জীবন বাঁচাতে ছুটে যান।'
ফ্লাইদুবাইয়ের ওই রুটে প্রতিদিন দুবাই থেকে তেল আবিবে যাতায়াত করে উড়োজাহাজ। জনপ্রিয় এই রুটের ফ্লাইট সাধারণত সৌদি আরব ও জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করে।
সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দর জানিয়েছে, উড়োজাহাজটির দুই পাইলটই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ইসরায়েলগামী পাইলটদের নিরাপত্তা যাচাই কঠোর করার সিদ্ধান্ত
ঘটনাটি নিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি, আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবে এক পাইলট যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন। পাইলটদের নাগরিকত্ব নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওমানি, আমিরাতি, রুশ ও ইউক্রেনীয় নাগরিক বলে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান রয়টার্সকে বলেন, 'ইসরায়েলে ফ্লাইট নিয়ে আসা প্রত্যেক পাইলটের পরিচয় আমরা জানব, তারা কারা তা নিশ্চিত হব এবং তাদের নিরাপত্তা যাচাই করা হবে।'
এ ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে একটি 'হাতাহাতির ঘটনা' ঘটেছিল এবং পরে ফ্লাইটটির পথ ঘুরিয়ে তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইটটিতে একটি 'নিরাপত্তাজনিত ঘটনা' ঘটেছিল, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
