ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে পাইলটকে জরুরী প্রয়োজনে ব্যবহারের কুঠার দিয়ে আঘাত করেছিলেন কো-পাইলট
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত কুঠার (ক্র্যাশ এক্স) দিয়ে ক্যাপ্টেনের ওপর হামলা চালিয়েছেন ফ্লাইটের একজন কো-পাইলট। তিনি উড়োজাহাজটিতে 'সন্ত্রাসী হামলা' চালানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রসিকিউটর জেনারেল।
বুধবার ইসরায়েলগামী 'এফজেড১০৭৩' ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় কো-পাইলট উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তীব্র গতিতে নিচের দিকে নামিয়ে দেন। এতে ১৮২ জন আরোহী নিয়ে ফ্লাইটটি প্রায় বিধ্বস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে যাত্রী ও কেবিন ক্রুরা দ্রুত এগিয়ে এসে কো-পাইলটকে পরাস্ত করেন এবং উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনেন।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত ক্যাপ্টেন জানান, আঘাতের পরও তিনি নিজের অবশিষ্ট শক্তি দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। বাইরে থেকে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ছুটে আসা লোকজন তখন ভেতরে ঢুকে কো-পাইলটকে আটকে ফেলেন। এরপর উড়োজাহাজটি নিরাপদে সৌদি আরবে জরুরি অবতরণ করে। পরবর্তীতে ক্যাপ্টেন ও কো-পাইলট উভয়কেই ইউএইতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বে এই ঘটনার তদন্ত চলছে। এতে ইসরায়েলসহ একাধিক দেশ অংশ নিচ্ছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চরমপন্থি মতাদর্শ গ্রহণের আশঙ্কায় ওমানের জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ার এই কো-পাইলটকে আগেই ফ্লাইট পরিচালনা থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রশাসনিক দায়িত্বে সরিয়ে দিয়েছিল। এরপর তিনি ইউএই-ভিত্তিক ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান। তবে নিয়োগের আগে তার অতীত কতটা যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
তদন্তকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—ওমানের সঙ্গে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এবং নিরাপত্তা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে ইসরায়েলগামী ফ্লাইটের ককপিটে দায়িত্ব পেলেন?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সরকারগুলোর সহায়তায় মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ওই কো-পাইলটের হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি; তবে ঘটনার দিন পর্যন্ত তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চালু ছিল, যা পরে মুছে ফেলা হয়।
এদিকে ইউএইর সিনিয়র কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এই ঘটনাকে একটি 'বিপজ্জনক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করেছেন, ওই কো-পাইলট 'ইসলামপন্থি উগ্রবাদে' দীক্ষিত হয়েছিলেন।
