ইরানের প্রতিনিধিদল কীভাবে দেশে ফিরবে?: বিমান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তেহরানকে মার্কিন অর্থমন্ত্রীর খোঁচা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়া ইরানের প্রতিনিধিদল কীভাবে দেশে ফিরবে—এমন প্রশ্ন তুলে তেহরানকে খোঁচা দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ইরানের বিমান চলাচলের ওপর ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে দেশটির আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, 'জাতিসংঘে আসা ইরানি প্রতিনিধিরা কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা ইরানিদের ওপর এমন চাপ সৃষ্টি করছি, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।'
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও তার প্রতিনিধিদল পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। শনিবার তাদের তেহরানে ফেরার কথা রয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর 'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট'-এর আওতায় ইরানের ২৭টি বিমান সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানি এয়ারলাইন্সগুলোকে জ্বালানি, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও টিকিটিং সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এই বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দেওয়া বাড়তি সময় গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেষ হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সেবা সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়ে। ফলে আজারবাইজান, বাগদাদ ও মাস্কাটের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং টার্কিশ এয়ারলাইন্সও অন্তত ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ইরানে তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
তবে মার্কিন বিধিনিষেধের পরও ইরান আন্তর্জাতিক আকাশপথ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। ফ্লাইট পর্যবেক্ষণকারী তথ্যের বরাতে জানা গেছে, সময়সীমা পার হওয়ার পরও তেহরান থেকে ব্যাংকক, ফুকেট, সাংহাই ও কাবুলের মতো গন্তব্যে অন্তত ছয়টি ফ্লাইট ছেড়ে গেছে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে। তিনি সাধারণ কোনো যাত্রীবাহী ফ্লাইটে নিউইয়র্ক যাননি; বরং 'আশিয়ানেহ' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের এয়ারবাস এ৩৪০ উড়োজাহাজে করে সেখানে পৌঁছান।
টিকিট বিক্রি না করা এই সংস্থাটির ওপর পেজেশকিয়ান তেহরান ছাড়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। যাত্রাপথে বিমানটি জ্বালানি নেওয়ার জন্য আলজিয়ার্সে যাত্রাবিরতি করেছিল।
শনিবার নির্ধারিত ফিরতি যাত্রায় পেজেশকিয়ান একই বিমানে দেশে ফিরবেন কি না কিংবা বিমানটি সেখানে প্রয়োজনীয় সেবা পাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর মন্তব্য অনুযায়ী ইরানি প্রতিনিধিদলটি সরাসরি 'আটকা পড়েছে' এমনটি বলা যাচ্ছে না। বরং ঘটনাটি ইরানের বিমান খাতকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের বাস্তব সীমাবদ্ধতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
