পারমাণবিক কর্মসূচি চালু করলে ইরানে আবার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল
ইরানে আবার হামলা চালানো এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। সৌদি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল হাদাসের বৃহস্পতিবারের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় ও সচল করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে।
এর আগে ইসরায়েলের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, ইরান সরকার তাদের অবশিষ্ট পারমাণবিক প্রকল্প নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রের নিকটবর্তী জাবাল আল-ফাসে সরিয়ে নিচ্ছে।
আল হাদাসের প্রতিবেদনে ওই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েল যেকোনো সময় 'ইরানের বিরুদ্ধে এবং অন্যান্য ফ্রন্টেও পুনরায় যুদ্ধ শুরুর জন্য প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক দুইভাবেই প্রস্তুত রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তেহরান যদি কোনো রেডলাইন অতিক্রম করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ থাকুক বা না থাকুক, আমরা তাদের পারমাণবিক স্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট যেকোনো ঘাঁটিতে আবার হামলা চালাব।'
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ইরান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত বিদ্যমান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তেহরানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ বিভেদ ও অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। 'এসব পরিস্থিতি ইরান সরকারকে এই অঞ্চলে—এমনকি ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও—সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিতে পারে,' বলেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত ইরান নিশ্চিত করার একমাত্র পথ হলো দেশটির সরকার পরিবর্তন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ইরানের ওপর হামলার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে না।
তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল দিচ্ছে।
এদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কাশনারের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ হয়েছে। জুলাইয়ে অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর এটিই দুই পক্ষের মধ্যে এ ধরনের প্রথম যোগাযোগ।
আল হাদাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিরোধ ও দুই পক্ষের মধ্যকার গভীর আস্থাহীনতার কারণে কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
