ইরানকে সহায়তা দিতে চীনকে নিষেধ করলেন ট্রাম্প; প্রতিশ্রুতি পাওয়ার দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠক চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ইরানকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং চীন এমনটি করবে না বলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি লাভ করেছেন। শুক্রবার চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত শুক্রবার এমন তথ্য জানিয়েছেন।
চীন ইরানকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার সরবরাহ করেছে এবং তেহরান চীনা সহায়তায় তাদের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ খুঁজে পেয়েছে—এমন খবর প্রকাশের মধ্যে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
বেইজিংয়ে নিযুক্ত ট্রাম্পের রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের কাছে পুনরায় বলেছেন ইরানকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাহায্য করা "সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।"
ফক্স নিউজকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে চীনের ইরানকে সহায়তা বন্ধ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পারডিউ জানান, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের কাছ থেকে এই আশ্বাস পেয়েছে ওয়াশিংটন।
ফক্স নিউজের "আমেরিকাজ নিউজ রুম" অনুষ্ঠানে পারডিউ বলেন, 'আমরা ইতোমধ্যেই এতে অগ্রগতি দেখতে পেয়েছি... এটিই তাদের প্রতিশ্রুতি। তারা গতকাল আমাদের নিশ্চিত করেছে, তারা এমন কিছু করছে না।'
পরবর্তীতে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, দুই নেতা ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ইরান ইস্যুতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি।
ইরানকে চীনের সহায়তা দেওয়া বিষয়ক খবরের ভিত্তিতে মার্কিন আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পকে শি জিনপিংয়ের মুখোমুখি হওয়ার তাগিদ দেন। চীনা বিভিন্ন সংস্থা ইরানকে এমন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিয়ে থাকতে পারে—যা এই সংঘাত চলাকালে মার্কিন সেনা হতাহতের কারণ বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
শুক্রবার রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরও মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাপে তেহরানের সঙ্গে চীন তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা সামরিক সম্পর্ক সীমিত করবে না বলে ইরানি কর্মকর্তাদের আশ্বাস দিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
গত জুলাই মাসে রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, চীন নির্মিত কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ৪০০টির প্রথম চালান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান হাতে পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে দুই জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরও তিন ব্যক্তি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পণ্য বিনিময়ের মতো এক ব্যবস্থার আশ্রয় নিয়ে সামরিক সরঞ্জামসহ কোটি কোটি ডলার মূল্যের চীনা পণ্য কিনছে ইরান।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন সি জিনপিং। তবে ইরানকে চীনের সহায়তার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
ওয়াশিংটনে তিন দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় সফর চলাকালীন ট্রাম্প ও শি—কারো পক্ষ থেকেই সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়নি।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প এমন একটি প্রতিবেদন উড়িয়ে দেন, যেখানে দাবি করা হয়—জুলাই মাসে জর্ডানের এক ঘাঁটিতে তিন মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনার আগে চীনা একাধিক সংস্থার কাছ থেকে সেই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করে ইরান।
১৩ সেপ্টেম্বর এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, 'আমরা যা করি, মূলত তারাও তা-ই করে। মানুষ যখন বলে চীন আমাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে, আমি বলি আপনারা সঠিক বলছেন এবং আমরাও তো তাদের ওপর নজরদারি চালাই।'
