মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে ফ্লাইট বন্ধ করলে প্রতিবেশী দেশের বিমানবন্দর অচল করে দেওয়ার হুমকি ইরানের
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে ইরানি বিমানসংস্থাগুলোর ফ্লাইট বন্ধ করলে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দর অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান।
গতকাল বুধবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের এভিয়েশন খাতকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে এ বক্তব্য দেন তিনি।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের এই সচিব হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ইরানি ফ্লাইট আটকে দিতে ওয়াশিংটনকে কোনো প্রতিবেশী দেশ সহায়তা করলে আমরা তা নীরবে সহ্য করবে না। বিপরীতে আমরাও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অচল করে দেব।'
এর আগে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেসব বিদেশি কোম্পানি ইরানি এভিয়েশন খাতকে সেবা দেবে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে।
নতুন এই নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান যদি ইরানি উড়োজাহাজে জ্বালানি সরবরাহ, রানওয়ে বা ল্যান্ডিং সুবিধা কিংবা টিকিটিং সেবাসহ যেকোনো সহায়তা দেয়, তবে তারা মার্কিন ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
ইতোমধ্যে ইরানের এভিয়েশন শিল্পের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। গত ৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র, সামরিক কর্মী ও অবৈধ মালামাল পরিবহনের অভিযোগ এনে ইরানের এভিয়েশন খাতের সঙ্গে জড়িত ৩৬টি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।
ব্যাহত ইরানি ফ্লাইট পরিচালনা
মার্কিন এই চতুর্মুখী চাপের ফলে বিশ্বজুড়ে ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে শুরু করেছে। ইরাক ও ওমান কর্তৃপক্ষ ইরানি ফ্লাইট চলাচলে কড়াকড়ি শুরু করার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাগুলো বাগদাদ ও মাস্কাটগামী সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। তবে পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলো নাজাফে পুনর্নির্দেশিত করার কথা ভাবছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট জানিয়েছে, আঞ্চলিক অন্যান্য আকাশপথের ফ্লাইটেও দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বৈশ্বিক এভিয়েশন সেবা সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা ও মাস্কাটগামী নিজেদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আপাতত স্থগিত করেছে ইরানের অন্যতম প্রধান বিমানসংস্থা মাহান এয়ার।
তবে ফ্লাইট চলাচলে ব্যাঘাত সব রুটে সমান নয়। প্রতিকূলতার মধ্যেও চীনসহ তুরস্কের নির্দিষ্ট কিছু গন্তব্যে ইরানের ফ্লাইট সার্ভিস এখনও সচল রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধপূর্ণ অবস্থানের কারণে নানা ধরনের শঙ্কায় পড়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বিমানবন্দর এবং এভিয়েশন কোম্পানিগুলো। একদিকে ইরানি এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জাঁতাকলে পড়ার ঝুঁকি, অন্যদিকে ফ্লাইট বন্ধ করলে তেহরানের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি—উভয় সংকটে পড়েছে তারা।
ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সামরিক দিক থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই মূলত মার্কিন প্রশাসন এই ধরনের কৌশল হাতে নিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের আড়ালে এসব উড়োজাহাজ সামরিক মালামাল ও সৈন্য স্থানান্তরে ব্যবহার করছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ ও অর্থনৈতিক চাপ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে যেকোনো মূল্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
