ইরানের এয়ারলাইন্সের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা 'অবৈধ': চীন
ইরানের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিকে গতকাল মঙ্গলবার অবৈধ বলে এর বিরোধিতা করেছে চীন। এর এক দিন আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সম্ভাব্য পদক্ষেপের হুমকি দেন।
বেসেন্ট মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে কয়েক দিনের মধ্যেই 'বিশ্বজুড়ে সব ইরানি বিমান সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে'।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ও কূটনৈতিক সমর্থক চীন মঙ্গলবার এসব হুমকির তীব্র সমালোচনা করে এবং এ ধরনের পদক্ষেপকে 'অবৈধ' বলে অভিহিত করে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি বা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন নেই—এমন অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বার বার বিরোধিতা করে আসছে চীন।'
চীনের এই সমালোচনা এমন এক সময়ে এলো, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ বৈঠক বৃহস্পতিবার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। ওই সময় ব্যাপক সামরিক অভিযানের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।
এর জবাবে তেহরান জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের যেসব বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে আগে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি, সেগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
ইরানের বিমান চলাচল খাতকে সহায়তা করার অভিযোগে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেয়। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের বাইরের দেশগুলোতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।
বেসেন্ট সাক্ষাৎকারে বলেন, 'তারা যদি অবতরণ করে, তাহলে আপনারা তাদের জ্বালানি সরবরাহ করতে পারবেন না, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দিতে পারবেন না, তাদের টিকিট বিক্রি করতে পারবেন না। অন্যথায় আপনাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।'
এর আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে 'অর্থনৈতিক ডি-ডে' ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে তেহরানের আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
এই সপ্তাহে দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে অর্থনৈতিক আলোচনা করতে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের এক দিন পর বেসেন্ট এসব মন্তব্য করেন।
