ইলেকট্রনিক যুদ্ধে বড় অগ্রগতি: চীনের প্রথম বাণিজ্যিক রেডিও-ট্র্যাকিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ
মহাকাশভিত্তিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতায় এক নীরব অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করেছে চীন। দেশটির উত্তরাঞ্চলের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে গত রোববার দুপুরে একটি লিজিয়ান-১ ওয়াই১৮ রকেটের সাহায্যে ৯টি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তিনটি ডিটিং-০১ স্যাটেলাইট, যা সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছেছে।
এই তিনটি স্যাটেলাইটের নামকরণ করা হয়েছে চীনের পৌরাণিক চরিত্র ডিটিং-এর নামানুসারে। চীনা পৌরাণিক মতে, পাতালপুরীতে বোধিসত্ত্ব 'ক্ষীতিগর্ভ'-এর আসনের নিচে বসে থাকা এই পৌরাণিক প্রাণীটি কেবল কান পেতে শুনেই পৃথিবীর সবকিছু চিনতে ও তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারত।
এই নামের সঙ্গেই স্যাটেলাইটগুলোর কাজের হুবহু মিল রয়েছে। এই ডিটিং উপগ্রহগুলো মহাকাশে চীনের 'তীক্ষ্ণ কান' বা সংকেতগ্রাহক হিসেবে কাজ করবে, যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ভেসে আসা বেতার তরঙ্গ ও রাডার সংকেত – বিরামহীনভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।
যুদ্ধজাহাজের রাডার, সামরিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক জ্যামার—সব ধরনের সংকেত শনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ তা কোথায় উৎপন্ন হচ্ছে, তা নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করতে পারবে এই স্যাটেলাইটগুলো।
কোনো সংঘাতের সময়ে এসব উপগ্রহ শত্রুদেশের এমন যুদ্ধজাহাজকেও নজরদারিতে রাখতে পারবে, যেগুলো তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এএইএস বন্ধ করে রাখবে। এ ছাড়া শত্রুসীমার গভীরে লুকিয়ে রাখা বিমান প্রতিরক্ষা রাডারের অবস্থান উন্মোচন করতে, কিংবা প্রতিপক্ষের পুরো ইলেকট্রনিক সামরিক বিন্যাস (অর্ডার অব ব্যাটল) মানচিত্রায়ন করতে সক্ষম এই স্যাটেলাইট।
চ্যাং গুয়াং স্যাটেলাইট টেকনোলজি এসব স্যাটেলাইট তৈরি করেছে। আর পরিচালনা করবে 'স্টার-আরএফ- নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এই তিনটি স্যাটেলাইট চীনের প্রথম বাণিজ্যিক সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স কনস্টেলেশনের সূচনা করল।
মহাকাশভিত্তিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি সেন্সিংয়ের মাধ্যমে পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট রিসিভার স্থাপন করা হয়, যাতে বিশাল এলাকা জুড়ে স্থলভূমি ও সমুদ্র অঞ্চলে উৎপন্ন সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে ভূ-পৃষ্ঠের গ্রাউন্ড স্টেশনের তুলনায় উপগ্রহগুলো অনেক বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি করতে পারে।
