যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানে পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক পেজেশকিয়ানের
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে ইরানের। এমতাবস্থায়, কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি। আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়া এড়াতে—পাকিস্তান ও কাতার বর্তমানে এই সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর– সোমবার তেহরানে এটি ছিল নকভির ষষ্ঠ সফর। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরেছে ইরান। তেহরান একথা জানানোর একদিন পরই এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদ ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, "আমরা মনে করি, যুক্তরাষ্ট্রের নানান পদক্ষেপ ও চাপপ্রয়োগ—মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি পারস্পরিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে। ইরান ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনা এই ধারারই স্পষ্ট উদাহরণ।"
এসময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে মহসিন নকভি বলেন, "আমাদের বিশ্বাস, ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অতীতে কখনোই আজকের মতো এত উচ্চমাত্রায় পৌঁছায়নি।"
এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে গতকাল সোমবার নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আগে কাতারের রাজধানী দোহায় সাময়িক যাত্রাবিরতি দেন তিনি। সেখানে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে এক সম্মেলনে—কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, পাকিস্তানের সঙ্গে সমন্বয় করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার পথ সুগম করতে কাজ করে যাচ্ছে দোহা। তিনি বলেন, "ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে এবং সংলাপের পথ খুলে দিতে দোহা কাজ করছে।"
তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে স্বল্পমেয়াদী হলেও একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করতে কাতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং নিউইয়র্কে অবস্থানকালে একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ওয়াশিংটন পেজেশকিয়ান ও আরাঘচিকে ভিসা দিলেও—প্রতিনিধি দলের বাকি সদস্যদের সফর ও কেনাকাটার ওপর নানান বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ট্রাম্পের অবস্থান
এর আগে রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিষয়ে বিভিন্ন বিকল্প ভেবে দেখা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে— "ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া, অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হতে দেওয়া কিংবা একটি চুক্তিতে আসা।" ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি হয়তো ইরানি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বসতেও রাজি হতে পারেন।
গত ১৭ জুনের ৬০ দিনের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংঘাত থামাতে বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ইরান আলোচনা শুরুর জন্য নতুন শর্ত নির্ধারণ করেছে বলে আল জাজিরাকে জানান দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসীন রেজায়ি। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এসব নতুন শর্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষা করছে।
এদিকে সোমবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবিষয়ে ইরান জানিয়েছে, তাদের অনুমতি ছাড়া বা অনুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলকারী জলযানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
