ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দিলেন রিপাবলিকানরাও, তৃতীয়বারের মতো কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে প্রস্তাব পাস
ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্দেশ দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করেছে দেশটির আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ।
গত মঙ্গলবার পাস হওয়া এই প্রস্তাবে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল। ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদে এবারও অন্তত কয়েকজন রিপাবলিকান প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছে, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদের শেষ দিকের ভোটগুলোর একটি হওয়ায় এবারকার উদ্যোগটি এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।
ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বে এবং রিপাবলিকান দলের কয়েকজন সদস্যের সহায়তায় এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ইরান থেকে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিল প্রতিনিধি পরিষদ। তবে ডেমোক্র্যাটদের দাবি, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে এটিই তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত দুটি প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মাত্র চারজন রিপাবলিকান ভোট দিলেও এবার সাতজন রিপাবলিকান এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো সমর্থন দিয়েছেন আইওয়া অঙ্গরাজ্যের দুই প্রতিনিধি ম্যারিয়ানেট মিলার-মিকস ও জ্যাক নান এবং সাউথ ক্যারোলাইনার ন্যান্সি মেস, যিনি চলতি মেয়াদের পর কংগ্রেস ছাড়ছেন। এর আগে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া চারজন রিপাবলিকান হলেন—কেন্টাকির থমাস ম্যাসি, মিশিগানের টম ব্যারেট, ওহাইওর ওয়ারেন ডেভিডসন এবং পেনসিলভানিয়ার ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক।
ভোটের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জ্যাক নান লিখেছেন, 'আমি অনির্দিষ্টকালের আরেকটি যুদ্ধকে সমর্থন করব না। কংগ্রেসের সাংবিধানিক দায়িত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমরা আমেরিকানদের রক্ষা করতে পারি, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারি এবং শান্তির পথ খুঁজতে পারি।'
আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান নেতারা এই ধরনের প্রস্তাবে দলীয় সদস্যদের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করেন না। তবে ট্রাম্প স্বয়ং তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া রিপাবলিকানদের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং এটিকে তাঁর প্রতি আনুগত্যের 'লিটমাস টেস্ট' হিসেবে দেখছেন। এর আগে সিনেটে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা নাটকীয়ভাবে ভেস্তে যায়; প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রিপাবলিকান সমর্থন দিলেও হোয়াইট হাউসের চাপে এক সিনেটর ভোট পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সিনেটেও প্রস্তাবটি পাসের চেষ্টা চালানোর পরিকল্পনা করছে ডেমোক্র্যাটরা।
ক্যাপিটল হিলের বাইরে সাধারণ আমেরিকান ভোটারদের মধ্যেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ৬৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি করেছে। তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং দেশটিতে ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়িয়েছে।
এমনকি খোদ ট্রাম্পের দলও এখন এই যুদ্ধের জন্য অতিরিক্ত তহবিল দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে, যার ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পেন্টাগনের শত শত কোটি ডলারের বিশেষ তহবিলের আবেদন কার্যত আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
