ট্রাম্পের মানচিত্রে মার্কিন পতাকাতলে আইসল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিতর্কিত চিত্র পোস্ট করে আইসল্যান্ডসহ উত্তর আমেরিকার একাধিক দেশকে মার্কিন পতাকার অধীন দেখানোর পর—যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আইসল্যান্ড সরকার। আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরইউভি এ তথ্য জানায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একটি মানচিত্র পোস্ট করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলকে মার্কিন পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় এবং পুরো ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র বলে চিহ্নিত করা হয়।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রেইকইয়াভিক। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থোরগারদুর গুনারসদোতির যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বিলি লং-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের উক্ত পোস্টকে 'সম্পূর্ণ আপত্তিকর' বলে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসল্যান্ড সরকারের অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। বিলি লং গত মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে রেইকইয়াভিক-এ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, কোপেনহেগেন ও রেইকইয়াভিকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কিংবা গ্রিনল্যান্ডের নুকে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট। আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ডেনমার্কের মালিকানাধীন স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে গত কয়েক বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নানামুখী মন্তব্য ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা দুই সদস্য রাষ্ট্র ছাড়াও পুরো ইউরোপ জুড়ে ট্রাম্পের এই মনোভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
এমনকি গত মাসে আইসল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান সংক্রান্ত আলোচনা পুনরায় শুরু করা হবে কি না—তা নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটেও ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত পরিকল্পনা অন্যতম পটভূমি হিসেবে কাজ করেছিল। ওই গণভোটে আইসল্যান্ডের জনগণ ইইউতে যোগদানের আলোচনা শুরুর বিপক্ষে রায় দেয়। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক কূটনীতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বিষয়গুলোই ভোটারদের সিদ্ধান্তে বেশি প্রভাব ফেলেছিল, তবে ইইউ সমর্থক অনেক নাগরিক ওয়াশিংটনের নীতিগত নির্ভরতা নিয়ে অনিশ্চয়তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন।
ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন গ্রিনল্যান্ড সফরকালে অঞ্চলটিতে ২০০ মিলিয়ন ইউরো নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দেন। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ট্রাম্প মানচিত্রটি পোস্ট করেন।
গ্রিনল্যান্ডের নুক সফররত ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেতে ফ্রেডেরিকসেন ডেনিশ সংবাদসংস্থা– রিটজাউ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের সরকার ও জনগণের বার্তা শুরু থেকেই পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট।
তিনি বলেন, "গ্রিনল্যান্ড সরকার ও সেখানকার জনগণ বারবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আমেরিকান হতে চায় না। আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র বা বিশ্বের আর কারও মনে এনিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।"
