সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি মানতে হবে ভারতকে: আন্তর্জাতিক আদালতের রায়; সদস্য হয়েও ভারত বলল আদালতই 'অবৈধ'
পাকিস্তানের সঙ্গে পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিত করলেও তা মেনে চলতে হবে ভারতকে। পাশাপাশি কাশ্মীর অঞ্চলে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজও সীমিত রাখতে হবে। সোমবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের 'পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন' (স্থায়ী সালিশি আদালত) এ নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ভারত এ রায় মানবে না জানিয়ে বলেছে, 'তথাকথিত' এই 'অবৈধ' আদালতের এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার 'এখতিয়ারই নেই'।
আদালত বলেন, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণে ভারত চুক্তিটি স্থগিত করলেও এর আওতায় থাকা পানি বণ্টনের বিধান মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে কাশ্মীরে নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সীমিত রাখতে হবে।
পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে এই চুক্তি। গত বছরের এপ্রিলে কাশ্মীরের একটি পর্যটনকেন্দ্রে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত করে।
ওই হামলায় জড়িত তিন হামলাকারীর মধ্যে দুজনকে পাকিস্তানি বলে শনাক্ত করেছিল ভারত। এরপরই পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পানি বণ্টন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি।
ইসলামাবাদ ওই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে গত বছর কাশ্মীর অঞ্চলের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে জলাধারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু করায় ভারতের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় পাকিস্তান।
ভারতের এই উদ্যোগকে ১৯৬০ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে কার্যকর থাকা সিন্ধু পানি চুক্তির আওতার বাইরে গিয়ে প্রকল্প পরিচালনার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। তিনটি যুদ্ধ ও আরও কয়েকটি সংঘাতের পরও এতদিন দুই দেশ চুক্তিটি মেনে চলেছে।
স্থায়ী সালিশি আদালত জানিয়েছেন, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করার ক্ষেত্রে ভারতের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
আদালত বলেছেন, 'পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা ও পরিচালনাসহ চুক্তির আওতাধীন সব বাধ্যবাধকতা ভারতকে মেনে চলতে হবে।'
এদিকে, ভারত ওই আদালতের আনুষ্ঠানিক সদস্য হলেও রায় দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
সোমবার এক বিবৃতিতে (৩১ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সালিশি আদালত গঠনই সিন্ধু পানি চুক্তির 'গুরুতর লঙ্ঘন'।
বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, 'বিশ্বব্যাংক চুক্তির শর্ত স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে এই তথাকথিত আদালত গঠন করেছে। ভারত এর তথাকথিত রায় দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে।'
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ভারত 'অবৈধভাবে গঠিত ও তথাকথিত এই সালিশি আদালতের' আইনগত অস্তিত্ব কখনোই স্বীকার করেনি। এই সালিশি সংস্থা গঠন সিন্ধু পানি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন—ভারত বরাবরই এমন অবস্থান নিয়ে আসছে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, 'তাই ভারত কখনোই এই সংস্থার সামনে হাজির হয়নি এবং এর আগের কোনো সিদ্ধান্তকেও আমলে নেয়নি।'
আদালত জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া একজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নির্ধারণ করবেন।
পাকিস্তানের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে আদালত আরও বলেছেন, ওই নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্তের ৯০ দিন পর্যন্ত রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের দেয়াল ও পানি প্রবেশের কাঠামো নির্ধারিত উচ্চতার বেশি নির্মাণ করতে পারবে না ভারত।
