মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ: পাকিস্তান
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে' যোগ দিতে অন্তত ছয় থেকে সাতটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। বর্তমানে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পানিস্তান এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। দেশগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারে আজ সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠকে বসেছেন।
যুক্তরাজ্যে এক সফরকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, আগ্রহী অন্য দেশগুলোর অন্তর্ভুক্তি সহজ করার লক্ষ্যে কর্মকর্তারা একটি খসড়া চুক্তির কাঠামো (এগ্রিমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক) নিয়ে কাজ করছেন। তবে সম্ভাব্য দেশগুলোর নাম সুনির্দিষ্ট করে প্রকাশ করেননি তিনি।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই 'মক্কা চুক্তি'তে যোগদানে আগ্রহ দেখানো সর্বশেষ দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ত্রিপক্ষীয় এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, চুক্তিবদ্ধ তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হলে—তা বাকি দুই দেশের ওপরও আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আঞ্চলিক অন্যান্য রাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করে এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা জোট আরও প্রসারিত করা হতে পারে।
ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির উদ্বোধনী বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক দার। ইস্তাম্বুলের এই বৈঠকে রিয়াদ ও আঙ্কারার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি তিন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানদেরও এই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আলোচনায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যকার যৌথ পরিচালন সক্ষমতা (ইন্টার-অপারেবিলিটি) বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে গভীর পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। এই কমিটি চুক্তির অধীনে সার্বিক কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্থায়ী সচিবালয়ের রূপরেখা তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই জোট গঠনের প্রশংসা করে— এটিকে সার্বভৌম দেশগুলোর নিজেদের সুরক্ষার সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি "সাহসী প্রথম পদক্ষেপ" বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি— পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার প্রচেষ্টায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
