যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন মিসাইল কিনছে ভারত
ভারত এবার একজন মাত্র সৈনিক বহন করতে পারে এমন 'ফায়ার-অ্যান্ড-ফরগেট' প্রযুক্তির মাঝারি পাল্লার ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে 'এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন মিসাইল' বিক্রির অনুমোদন দেয়। নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, 'বড় খবর! ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন কেনার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের মে মাসে শাংগ্রি-লা সংলাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিট হেগসেথ এ তথ্য জানিয়েছিলেন। এটি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি এবং যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। আমাদের দুই দেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতা এখন রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে।'
দূতাবাস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের পাশাপাশি কয়েকটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে।
গোর আরও বলেন, 'এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের একসঙ্গে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করছে। আমরা ভবিষ্যতে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা দেখছি, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।'
ভারত কতগুলো ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী জ্যাভলিন মিসাইল কিনছে বা এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনায় মোট কত ব্যয় হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তবে এ বিষয়ে নয়াদিল্লি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র
জ্যাভলিন হলো সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে ব্যবহারের জন্য তৈরি একটি বহনযোগ্য ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স যৌথভাবে এটি তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাহিনীতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনা ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজেই লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে পারে। এতে অপারেটর আড়ালে গিয়ে পাল্টা হামলা এড়াতে পারেন।
জ্যাভলিন ট্যাঙ্কের উপরের সেই অংশে আঘাত হানে, যেখান দিয়ে মানুষ ককপিটে প্রবেশ করে। এটি ট্যাঙ্কের সবচেয়ে কম সুরক্ষিত অংশ। ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণের পর উল্টো 'ইউ' আকৃতির গতিপথে উড়ে গিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
গানার একটি কার্সার ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করেন। এরপর কমান্ড লঞ্চ ইউনিট ক্ষেপণাস্ত্রটিকে উৎক্ষেপণের আগে লক্ষ্যবস্তুতে লক করার সংকেত পাঠায়। এর ওজন কম হওয়ায় গুলি ছোড়ার পর সেনারা অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন অথবা পুনরায় লোড করে অন্য লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
জ্যাভলিনের 'সফট-লঞ্চ' প্রযুক্তির কারণে ভবন ও বাঙ্কারসহ আবদ্ধ স্থাপনার ভেতর থেকেও এটি নিরাপদে নিক্ষেপ করা যায়।
মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের জন্য জ্যাভলিন তৈরি ও উৎপাদন করেছে জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার। এতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থিত লকহিড মার্টিন এবং অ্যারিজোনার টাকসনে অবস্থিত রেথিয়ন যুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভলিন ব্যবস্থা এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইলসহ মোট ৯ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়।
স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী এবং ইউক্রেনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক।
ভারত এরই মধ্যে এম৭৭৭ হাউইটজারের সঙ্গে এক্সক্যালিবার গোলাবারুদ ব্যবহার করছে।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বড় প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে সই করে। এর লক্ষ্য ছিল স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে দুই দেশের বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা ও সমন্বয় জোরদার করা।
ভারত এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামও সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি ও চিনুক হেলিকপ্টার, সি-১৭ ও সি-১৩০জে পরিবহন বিমান, পি-৮আই সামুদ্রিক টহল বিমান এবং এম৭৭৭ হাউইটজার।
