যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৮ শীর্ষ গবেষক পাড়ি জমালেন কানাডায়
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাডেমিক অঙ্গনে অস্থিরতার মধ্যে হার্ভার্ড, ইয়েল ও এমআইটির মতো শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪৮ গবেষককে নিয়োগ দিয়েছে কানাডার ২১টি বিশ্ববিদ্যালয়।
বৃহস্পতিবার কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মোট ৬৪ জন নতুন গবেষক নিয়োগের ঘোষণা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে কানাডায় যাচ্ছেন। বাকিরা ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আসছেন।
কানাডা সরকার গবেষণার জন্য ৫০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে এ নিয়োগের অর্থায়ন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গবেষণা ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এটি কানাডার উদ্ভাবনী প্রকল্পে ১২০ কোটি কানাডীয় ডলারের বৃহত্তর বিনিয়োগ পরিকল্পনার অংশ। আগামী বছর দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৩ জন গবেষক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী, একাডেমিক স্বাধীনতা ও গবেষণা তহবিল নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মেধাবী গবেষকদের কানাডায় টানার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরএনএ থেরাপিউটিকস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ফিলিপ জামোরে মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন। ম্যাকগিল আরও পাঁচজন গবেষক নিয়োগ দিয়েছে।
জামোরে বলেন, 'আমি এমন একটি দেশে বাস করতাম, যাকে আমি বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে মানবজীবনের উন্নতিতে বিজ্ঞানের সম্ভাবনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উৎসাহী বলে মনে করতাম। একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, সেটি আর সত্য নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'বিজ্ঞানীরা যদি সত্যের পক্ষে না দাঁড়ান, তাহলে কেউই দাঁড়াবে না।'
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ ছেড়ে যাওয়া পুষ্টিবিজ্ঞানী কেভিন হলও কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তিনি অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়ে তাঁর গবেষণায় ফেডারেল কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ ও সেন্সরশিপের অভিযোগ তুলেছিলেন।
কানাডার শিল্পমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেন, 'যখন কিছু দেশ গবেষণায় ব্যয় কমাচ্ছে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তখন আমরা বিজ্ঞানে বিনিয়োগ দ্বিগুণ করছি।'
নতুন গবেষক নিয়োগের এই উদ্যোগকে তিনি বিশ্বের 'সবচেয়ে বড় মেধা আকর্ষণ' প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেন।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও পরিবেশ প্রকৌশলের অধ্যাপক সেথ গুইকেমাও যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাচ্ছেন। গবেষণা তহবিল নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি নতুন সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন। আগামী জানুয়ারিতে তিনি অন্টারিওর লন্ডনে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।
তিনি বলেন, 'প্রতিটি দেশই কোন খাতে অর্থায়ন করবে, সে বিষয়ে নিজস্ব অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। সমাজের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণায় সহায়তা দিতে কানাডা খুব ভালো কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়।'
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ও ছয়জন গবেষক নিয়োগ দিয়েছে। তাদের মধ্যে এমআইটির কানাডীয় জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী সারা সিগার রয়েছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার পথ হিসেবে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এখন অনেক গবেষকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে কানাডীয় বংশসূত্র প্রমাণ করতে পারা ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের সুযোগ সম্প্রসারণের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে হাজার হাজার আবেদন জমা পড়েছে।
