সোনিয়া গান্ধী পাণ্ডুলিপিতে ‘কাটছাঁটের’ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্মৃতিকথা প্রকাশ বাতিল করল পেঙ্গুইন
পাণ্ডুলিপির নির্দিষ্ট কিছু অংশে সম্পাদনা ও ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ভারতের রাজনৈতিক দল কংগ্রেস-নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বহুল প্রতীক্ষিত স্মৃতিকথা প্রকাশ থেকে সরে এসেছে প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়া (পিআরএইচআই)। সোনিয়া গান্ধীর বই 'বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ' প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাণ্ডুলিপির নির্দিষ্ট কিছু অংশে কিছু পরিবর্তন ও ছাঁটাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া। তবে লেখিকা সোনিয়া গান্ধী তাতে স্পষ্ট সায় না দেওয়ায় এই জটিলতার তৈরি হয়। শেষপর্যন্ত পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া বইটি প্রকাশের চুক্তি থেকে সরে আসায় বর্তমানে ভারতের আরও বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থা বইটি প্রকাশের দৌড়ে নেমেছে।
জানা গেছে, ভারতে বইটি প্রকাশের চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে আরেক বিখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা হার্পার-কলিন্স।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা আলফ্রেড এ ক্যানোফ (পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউসের একটি বিভাগ) আগামী ১০ নভেম্বর বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। ক্যানোফ প্রথম সংস্করণেই ১ লাখ কপি বই ছাপানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।
তবে বইয়ের পাণ্ডুলিপিতে পরিবর্তন ও ছাঁটাই সংক্রান্ত প্রশ্নের বিষয়ে কথা বলতে পেঙ্গুইন র্যান্ডম হাউস ইন্ডিয়ার সিইও গৌরব শ্রীনাগেশ, প্রকাশনা সংস্থা ক্যানোফ এবং সোনিয়া গান্ধীর এজেন্ট ডেভিড গডউইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সোনিয়া গান্ধী আগেও একাধিক বই লেখা ও সম্পাদনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তবে, এই বই সংশ্লিষ্টদের দাবি—এটি তার জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত, অকপট ও প্রামাণ্য দলিল হতে যাচ্ছে। ক্যানোফ বইটিকে 'বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেত্রীর জীবনের ভালোবাসা, পরিবার এবং ভারতকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি আকর্ষণীয় স্মৃতিকথা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
বইটি প্রসঙ্গে এক বার্তায় সোনিয়া গান্ধী বলেন, 'আমার পরিবারকে নিয়ে এ যাবত বহু লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু তাদের মূল উদ্দেশ্য, চিন্তাধারা, সিদ্ধান্ত এবং ভুলত্রুটিগুলোর প্রকৃত সত্য খুব কম লেখাতেই উন্মোচিত হয়েছে। গত ছয় দশক ধরে আমি ভারতকে যেভাবে পরিবর্তিত হতে দেখেছি এবং যেসব সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছি, এই বই পাঠকদের সামনে সেই অনন্য ইতিহাস তুলে ধরবে।'
সাম্প্রতিক সময়ে সংবেদনশীল বিষয়বস্তু নিয়ে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরাভানের বিতর্কিত স্মৃতিকথা 'ফোর স্টারস অব ডেস্টিনি' প্রকাশ না করার ঘোষণা দিয়েছিল পিআরএইচআই। যদিও পরে ভারতের লোকসভায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে বইটির একটি মুদ্রিত হার্ডকপি প্রদর্শন করতে দেখা যায়। পরে গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন সংঘাত ও বিতর্কিত অগ্নিপথ প্রকল্প নিয়ে বইটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
এছাড়া গত জুনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এক প্রতিবেদনে জানায়, মুজাফফরনগর দাঙ্গার ওপর বিখ্যাত গ্রাফিক ঔপন্যাসিক জো স্যাকোর লেখা 'দ্য ওয়ান্স অ্যান্ড ফিউচার রায়ট' বইটির প্রকাশনাও একইভাবে বাতিল করে পিআরএইচআই। ওই সময় সংস্থাটির সিইও গৌরব শ্রীনাগেশ দাবি করেন, আইনি পর্যালোচনার সময় বইটিতে ভারতের মানচিত্রের ভুল সীমানাসহ কিছু 'স্পর্শকাতর বিষয়বস্তু' ধরা পড়ায় তারা বইটি না ছাপানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
