ইরান ও বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা চীনের
ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিষেধাজ্ঞা বা 'সেকেন্ডারি স্যাংশন' ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করে এতে চীনা কোম্পানিগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হলে—তার বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে বেইজিং।
আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার হুমকি বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, "চীন তার নিজস্ব অধিকার ও স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।"
তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত অবৈধ একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চীনের সুনির্দিষ্ট ও দৃঢ় অবস্থানের কথা আমরা বহুবার স্পষ্ট করেছি। বর্তমান জরুরি কাজ হলো– পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা এবং যত দ্রুত সম্ভব সংলাপ ও আলোচনার পথে ফিরে আসা।'
এর আগে সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট যে নিষেধাজ্ঞার কাঠামো তুলে ধরেন, তাতে হংকং ও মূল ভূখণ্ডের চীনের কিছু সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও— দেশটির বড় কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করেনি ওয়াশিংটন।
ইরানের উৎপাদিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে চীন। এমন পরিস্থিতিতে চীনের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বড় ধরনের বিস্তার–উভয় দেশের সম্পর্ককে চরম বৈরীতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। আর সেটা এমন সময়ে ঘটবে, যার মাত্র এক মাস পরেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য উভয় নেতার এই শীর্ষ সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। গত বছর অক্টোবরে দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধে যে এক বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল এবং মে মাসে ট্রাম্পের বেইজিং সফরে যা আরও সুদৃঢ় হয়েছিল, সেটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
চীনের বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো সাধারণত ইরানের অপরিশোধিত তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও, বেইজিং ছোট ছোট বেসরকারি রিফাইনারিগুলোকে ইরান থেকে তেল আমদানি ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ দেয়।
চলতি বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র এসব রিফাইনারির কয়েকটির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিলেও—চীন দেশীয় কোম্পানিগুলোকে তা মেনে না চলার নির্দেশ দেয়।
চীন ইতোমধ্যে একটি কঠোর 'নিষেধাজ্ঞা-বিরোধী আইনি কাঠামো' গড়ে তুলেছে, যার আওতায় চীনা কোম্পানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর বিদেশি বিধিনিষেধ আরোপে সহায়তা করা—বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
