মস্তিষ্ক সচল ও প্রখর রাখতে আসলে যতটা পানি পান করা প্রয়োজন
আমার বন্ধুদের কাছে যেসব অদ্ভুত বিষয়ের জন্য আমি পরিচিত, তার একটি হলো—আমার কখনোই তৃষ্ণা পায় না। একেবারেই না। ব্যায়াম করার পরও নয়, এমনকি সাউনার (বাষ্প স্নান) পরও নয়। নিজেকে মনে করিয়ে না দিলে আমি পানি খাওয়ার কথাই ভুলে যাই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে অস্বাভাবিক রকমের গরম পড়ার পর প্রথমবারের মতো ভাবতে শুরু করেছি, শরীরের এই তৃষ্ণাবোধের ঘাটতি কি আমার সাম্প্রতিক মস্তিষ্কের ঝাপসাভাব এবং সামগ্রিকভাবে চিন্তাশক্তির স্বাভাবিক তীক্ষ্ণতা কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে? এর জন্য কি পানিশূন্যতাই দায়ী? আর যদি তা-ই হয়, তাহলে মস্তিষ্ককে সর্বোচ্চ কার্যক্ষম রাখতে আমার কতটা পানি পান করা উচিত?
পানি যে মস্তিষ্কের জন্য অপরিহার্য, তা বলাই বাহুল্য। এটি নিউরন বা স্নায়ুকোষকে সংকেত আদান-প্রদান করতে সাহায্য করে, কোষগুলোকে সক্রিয় রাখতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয় এবং আমাদের ঘুমানোর সময় শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতেও সহায়তা করে। তবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপর পানির সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ধারণ করা কঠিন। এর একটি কারণ হলো, পানি গ্রহণ ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত বেশির ভাগ গবেষণাই তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরের। তারপরও এসব গবেষণা একসঙ্গে বিবেচনা করলে বেশ কিছু কৌতূহলোদ্দীপক ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
উদাহরণ হিসেবে, একটি গবেষণায় ২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক দুই দফায় বেশ কয়েকটি বুদ্ধিবৃত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। প্রতিবারই পরীক্ষার আগে তাদের ১২ ঘণ্টা খাবার ও পানি ছাড়া থাকতে হয়েছিল। একটি পরীক্ষার আগে তাদের ৫০০ মিলিলিটারের একটি পানির বোতল দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ইচ্ছামতো পানি পান করতে পারেন। পানি পান করার পর অংশগ্রহণকারীরা এমন কিছু বিচার-বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরীক্ষায় ভালো ফল করেন, যেখানে তাৎক্ষণিক কোনো সহজাত অনুভূতিকে দমন করে তার পরিবর্তে ধীরস্থির ও গভীরভাবে চিন্তা করতে হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীরা কতটা তৃষ্ণার্ত বা কাজটি করার জন্য কতটা আগ্রহী ছিলেন, ফলাফল তার ওপর নির্ভর করেনি।
পানি এই সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া প্রথম গবেষণা ছিল এটি। এই সক্ষমতাকে বলা হয় 'জ্ঞানগত প্রতিফলন'। তবে গবেষণাটি ছোট হওয়ায় এর কারণ ঠিক কী, তা বলা কঠিন। গবেষকদের একটি সম্ভাবনা হলো, পানিশূন্যতার কারণে মস্তিষ্কের অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট কর্টেক্সে রক্তপ্রবাহ কমে যেতে পারে। মস্তিষ্কের এই অংশটি কোনো কাজ করার তাগিদ বা প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ ও দমন করতে আমরা ব্যবহার করি। পানিশূন্যতার কারণে রক্তে কর্টিসলের মাত্রাও বেড়ে যেতে পারে। কর্টিসল হলো একটি মানসিক চাপ-সম্পর্কিত হরমোন, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে প্রমাণ রয়েছে।
অন্য কিছু গবেষণায় অবশ্য পানিশূন্যতার কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব পাওয়া যায়নি। তবে অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, পানিশূন্য অবস্থায় পরীক্ষাগুলোর কাজ তাদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি পরিশ্রমসাধ্য মনে হয়েছে। বিষয়টি আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে কিংস কলেজ লন্ডনের ম্যাথিউ কেম্পটন ও তার সহকর্মীরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন। শিক্ষার্থীরা ৯০ মিনিট ধরে একটি স্থির সাইকেলে ব্যায়াম করেন—একবার স্বাভাবিক ব্যায়ামের পোশাক পরে এবং আরেকবার শরীরের সঙ্গে কালো প্লাস্টিকের আবর্জনার ব্যাগ লাগিয়ে, তার ওপর রাসায়নিক যুদ্ধের সুরক্ষাবর্ম এবং সবশেষে একটি ট্র্যাকসুট পরে। কেম্পটন বলেন, 'ধারণাটি ছিল, এটি যেন বায়ুরোধী হয়, যাতে তারা প্রচুর ঘামে।' এই অবস্থায় ৯০ মিনিটে তাদের শরীরের ওজন এক কেজিরও বেশি কমে গিয়েছিল।
যদিও এটি বেশ চরম পরিস্থিতি বলে মনে হতে পারে, কেম্পটনের ধারণা, গরমের দিনে পানি পান না করলে একই পরিমাণ পানি শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে শিক্ষার্থীরা ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করেছিলেন এবং ব্যায়াম শুরুর ঠিক আগে আরও ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করেছিলেন। এরপর গবেষক দল চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রায়ন ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিমাপ করেন। এ সময় তাদের এমন কিছু নির্বাহী কার্যক্ষমতার পরীক্ষা দিতে হয়েছিল, যার মধ্যে আগে থেকে পরিকল্পনা করা এবং স্থানিক তথ্য প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজ ছিল।
পানিশূন্য অবস্থায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় খারাপ ফল করেননি। তবে তাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরেছিল। পানিশূন্য অবস্থায় তারা যখন কাজটি করছিলেন, তখন মস্তিষ্কের ফ্রন্টোপ্যারিয়েটাল নেটওয়ার্কে বেশি সক্রিয়তা দেখা যায়। এই নেটওয়ার্ক মনোযোগ ধরে রাখা এবং সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। কেম্পটন বলেন, এর অর্থ হলো একই ফলাফল অর্জনের জন্য তাদের মস্তিষ্ককে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হচ্ছিল।
বেশি পরিশ্রমের অর্থ হলো বিপাকক্রিয়া ও শক্তির ব্যবহারও বেড়ে যাওয়া। কেম্পটনের ধারণা হলো, পানিশূন্যতার কারণে যদি মস্তিষ্ক বেশি শক্তি ব্যবহার করে, তাহলে একপর্যায়ে এর কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, 'আমরা বিষয়টিকে একটি গাড়ির সঙ্গে তুলনা করি—একটি বেশি দক্ষ গাড়ির তুলনায় একই দূরত্ব যেতে যদি কোনো গাড়িকে বেশি পেট্রল খরচ করতে হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব সেটির জ্বালানি দ্রুত ফুরিয়ে যাবে।'
সম্ভবত আমিও ইদানীং রূপক অর্থে 'জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার' অবস্থায় আছি—পানিশূন্য এবং ক্রমেই কম দক্ষ হয়ে পড়া একটি মস্তিষ্ক দিয়ে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতার মাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কর্মক্ষমতা কমতে শুরু করার আগে একজন মানুষের কতটা পানিশূন্য হতে হয়?
২০১৮ সালে ৩৩টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শরীরের ওজনের ২ শতাংশের বেশি পানি কমে গেলে বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতায় সামান্য হলেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে মনোযোগ, নির্বাহী কার্যক্ষমতা এবং শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়-সংক্রান্ত কাজগুলো এতে বেশি প্রভাবিত হয়। ৭০ কেজি ওজনের একজন মানুষের ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ওজন কমার অর্থ হলো প্রায় ১.৪ কেজি।
তবে মনে রাখা দরকার, পানিশূন্যতার প্রভাব সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। বয়স্ক মানুষ পানিশূন্যতার প্রতি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। এর একটি কারণ হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যায় এবং পানি শরীরে ধরে রাখার ক্ষেত্রে কিডনির সক্ষমতাও কমে যেতে পারে। বয়স্ক মানুষের দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতার সঙ্গে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে শারীরিক দুর্বলতা বৃদ্ধি, হৃদ্রোগ, মুখের স্বাস্থ্যের অবনতি এবং অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বেশি সময় লাগা।
পানিশূন্যতা স্মৃতিভ্রংশের উপসর্গও আরও খারাপ করতে পারে বলে মনে করা হয়। এর সম্ভাব্য একটি কারণ হলো, পানিশূন্যতার ফলে কিছু প্রোটিন ভুলভাবে ভাঁজ হয়ে যেতে পারে এবং মস্তিষ্ক থেকে এসব প্রোটিন অপসারণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। স্মৃতিভ্রংশের অগ্রগতির সঙ্গে এই দুটি প্রক্রিয়ারই সম্পর্ক রয়েছে।
ছোট শিশুরাও পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এর কারণ হলো তাদের কিডনির বিকাশ এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, তারা শারীরিকভাবে বেশি সক্রিয়, ঘামের মাধ্যমে তুলনামূলক দ্রুত পানি হারায় এবং কখন পানি পান করবে, সে ক্ষেত্রে তারা বড়দের ওপর নির্ভরশীল।
তারপরও আমি ধরে নিয়েছিলাম, পর্যাপ্ত পানি পান করার ব্যাপারে এখন যেহেতু এত বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে—বাচ্চাদের কোথাও পাঠানোর সময় তাদের সঙ্গে সারাক্ষণ একটি পানির বোতল না থাকলেই যেন নয়—তাই যুক্তরাজ্য বা অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশে এটি বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বেশ কয়েকটি গবেষণা বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক স্কুলশিশু নিয়মিত পানিশূন্য অবস্থায় স্কুলে পৌঁছায়।
ডিসেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের ৯ ও ১০ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে একটি গবেষণায় দেখা যায়, স্কুলের দিন শুরুর সময় ১৭ শতাংশ শিশু পানিশূন্য অবস্থায় ছিল। দিন শেষে এই হার বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায়—যদিও স্কুলে তাদের বিনামূল্যে পানি পান করার সুযোগ ছিল।
দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পানিশূন্যতার এই বৃদ্ধি শিশুদের মেজাজের অবনতির সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল এবং স্মৃতিশক্তির পরীক্ষায় খারাপ ফলাফলের সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া যায়। আরও বেশ কয়েকটি গবেষণায় শিশুদের পানিশূন্যতার সঙ্গে মনোযোগ, তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি, নির্ভুলতা এবং একাগ্রতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ছোট পরিসরের কিছু পরীক্ষায় আবার দেখা গেছে, পরীক্ষার আগে শিশুদের পানি পান করালে তাদের দৃশ্যগত মনোযোগ, দৃশ্যগত স্মৃতি এবং মেজাজের উন্নতি হতে পারে।
এসব বিষয় আমাকে ভাবতে বাধ্য করছে—আমার নিজের তৃষ্ণার সংকেত যদি সত্যিই দুর্বল হয়, তাহলে কি এটি আমার পুরো পরিবারের জন্যও সমস্যা হতে পারে? যুক্তরাজ্যের ওই গবেষণার গবেষকরা বলছেন, শিশুদের সারাদিন পানি পান করার সুযোগ করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়। কারণ পানি পান করার জন্য তারা অনেকটাই বাইরের সংকেতের ওপর নির্ভরশীল—যেমন বাবা-মা ও শিক্ষকদের নিয়মিত তাদের পানি পান করার কথা মনে করিয়ে দেওয়া।
মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ সুস্থতা ও কার্যক্ষমতার জন্য আমাদের কতটা পানি পান করা উচিত—এই প্রশ্নে কেম্পটন বলেন, 'এ নিয়ে আমাদের সম্ভবত অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা উচিত নয়।' তিনি বলেন, 'এটা মনে রাখা ভালো যে আমরা পানীয় ছাড়াও খাবারের মাধ্যমে পানি পেয়ে থাকি… তবে বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখা দরকার।'
আমরা প্রায়ই শুনি, প্রতিদিন আট গ্লাস বা দুই লিটার পানি পান করা উচিত। আবার জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার কিছু ওয়েবসাইটে ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের জন্য দিনে সর্বোচ্চ তিন লিটার পর্যন্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে সবার জন্য প্রযোজ্য এমন কোনো একক উত্তর নেই।
২০২২ সালে প্রকাশিত একটি বিশাল বৈশ্বিক গবেষণায় ৮ দিন বয়স থেকে ৯৬ বছর বয়সী ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সবার জন্য একইভাবে প্রতিদিন আট কাপ পানি পান করার প্রচলিত সুপারিশ খুব কম ক্ষেত্রেই মানুষের প্রকৃত পানির চাহিদার সঙ্গে মেলে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন শরীরে যে পরিমাণ পানি প্রবেশ করে এবং শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, অর্থাৎ পানির মোট চলাচল, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল। তাদের ক্ষেত্রে এর গড় পরিমাণ ছিল প্রতিদিন প্রায় ৪.৩ লিটার পানি। আর ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে এই গড় ছিল প্রায় ৩.৪ লিটার।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পরিমাণের কিছু অংশ শরীরের বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেই তৈরি হয়। আর উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে অবশিষ্ট পানির প্রায় অর্ধেকই অনেক সময় খাবার থেকে পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের একজন সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে খাবার ও শরীরের বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে পাওয়া পানি বাদ দিলে প্রতিদিন পানীয় হিসেবে আনুমানিক ১.৫ থেকে ১.৮ লিটার পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে। গবেষণাটির নেতৃত্ব দেওয়া অ্যাবারডিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন স্পিকম্যান এ তথ্য জানান। তবে গর্ভাবস্থা, জীবনযাপন, বয়স ও ব্যায়ামসহ বিভিন্ন কারণে এই পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হতে পারে।
তবে প্রতিদিন বিশাল আকারের পানির পাত্র সঙ্গে নিয়ে ঘোরার যে প্রবণতা এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তা বিবেচনা করলে বলা যায়, যারা নিয়ম করে প্রতিদিন সেই বিশাল পাত্রের পুরো পানি শেষ করছেন, তারা সম্ভবত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি পান করছেন।
অন্যদিকে, শিশুদের নিয়মিত পানি পান করার জন্য বড়দের কাছ থেকে আরও বেশি উৎসাহ পাওয়া উপকারী হতে পারে।
আমার নিজের কথা বলতে গেলে, আমি মোটামুটি নিশ্চিত যে আমি এই সমীকরণের ভুল দিকেই রয়েছি এবং আমার নিজের পানি পানের পরিমাণ বাড়ানো উচিত—আমার সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যদিও শসা ও স্ট্রবেরি খাওয়ার প্রতি আমাদের সবার যে ভালোবাসা, সেটি হয়তো ইতিমধ্যে এ ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা কাজ করে দিচ্ছে। কারণ এই দুটি খাবারেরই ৯০ শতাংশের বেশি অংশ পানি।
আমি এ নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করব না। তবে আমার প্রতিদিনের রুটিনে আরও কয়েক গ্লাস পানি যোগ করব। আশা করছি, এতে আমার চিন্তাশক্তির সেই হারিয়ে যাওয়া তীক্ষ্ণতার কিছুটা হয়তো আবার ফিরে পাব।
