মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দী করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার, নারীরা পাবে দ্বিগুণ: ইরান
ইরানের সেনাবাহিনী রোববার ঘোষণা দিয়েছে, কোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যা বা জীবিত আটক করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সমমূল্যের অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো নারী এই কাজ করলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। অঞ্চলটিতে দুই দেশ মাঝেমধ্যে একে অপরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যেকোনো শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল পুনরায় চালু করা একটি বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতেমি জানান, আর্থিক সহায়তায় অংশ নেওয়ার জন্য 'বিপুলসংখ্যক অনুরোধ' পাওয়ার পর এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।
মার্কিন সেনাসদস্যদের কোথায় বা কখন হত্যা কিংবা আটক করা হবে, সে বিষয়ে হাতেমি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের সময় ইরানে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েনের কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে এপ্রিলে একটি মার্কিন বিমানচালকের বিমান ভূপাতিত হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে একটি অভিযান চালানো হয়েছিল।
আইআরএনএ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে হাতেমি বলেন, 'যে ব্যক্তি কোনো আগ্রাসী মার্কিন সামরিক সদস্যকে হত্যা বা আটক করে ইরানের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন, তাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার বা ৫০০ কোটি তোমান সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হবে।'
এখানে তিনি ১০ হাজার ইরানি রিয়ালের সমমূল্যের একটি প্রচলিত অনানুষ্ঠানিক মুদ্রা একক ব্যবহার করেছেন।
হাতেমি আরও ঘোষণা করেন, কোনো নারী এইভাবে কোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে আটক করতে পারলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে।
তিনি বলেন, 'সাহসী ইরানি নারীরা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে দ্বিগুণ পুরস্কার পাবেন।'
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওই দিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং ইসরায়েলের বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের বাহিনী তেহরান ও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতে থাকা বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
ইরান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কার্যকর অবরোধ সৃষ্টি করে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। এর ফলে তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়ে।
প্রাথমিক হামলার পর প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা লড়াইয়ের অবসানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এরপর জুনে শান্তি আলোচনা শুরুর জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হলেও পরে তা ভেঙে যায়।
এরপর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষিপ্তভাবে পরস্পরের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এসব লড়াই মূলত ইরানের দক্ষিণাঞ্চল এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরাও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় যুক্ত হয়েছে। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে নৌচলাচলও ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
