ইরানি পাইলটদের বিষয়ে জানতে কাতার ইরানের অনুসন্ধান কমিটিকে অনুমতি দেয়নি: আইআরজিসি
কাতারের আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে আটক তিন ইরানি পাইলটকে বন্দি রাখার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দোহা জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানি বিমান কাতারের আকাশসীমায় প্রবেশ করে এবং বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা সত্ত্বেও তারা কোনো সাড়া দেয়নি।
তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করছে, তাদের পাইলটদের জীবিত আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাদের প্রতিনিধি দলকে কাতার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, উদ্ধারকারী দল পরবর্তীতে বিমানের এক পাইলটের মরদেহ উদ্ধার করেছে। ওই পাইলটের মরদেহ ইরানের কাছে হস্তান্তর করতে কাতারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তেহরান এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনার আহ্বানে সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-র তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান যখন যুদ্ধবিমান পাঠায়, তখন কাতারভিত্তিক একটি সামরিক ঘাঁটিতে অভিযান চলাকালে তিন ইরানি পাইলট ইজেক্ট করে কাতার ভূখণ্ডে নামেন এবং কাতার বাহিনী তাদের জীবিত আটক করে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার মোহাম্মদ বাকেরজাদেহ অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের অনুসন্ধানী দল কাতারে গিয়ে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু কাতারি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি প্রতিনিয়ত বিলম্বিত করছে এবং তদন্তে বাধা দিচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি অবিলম্বে রেড ক্রস আন্তর্জাতিক কমিটির হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
আইআরজিসি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, কাতার শুধু অস্বীকারের রাজনীতি না করে যেন ইরানি বিশেষজ্ঞ দলকে নিরপেক্ষ তদন্তের সুযোগ দেয়।
