ইউক্রেনের শস্যবাহী জাহাজে রাশিয়ার টানা হামলা, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ
ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী ওডেসার সৈকত পারের পায়ে চলার পথে স্থানীয় মানুষজন ও দর্শনার্থীরা সেদিনও নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ঠিক তখনই সাগরের বেশ কিছুটা গভীরে দেখা যায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ। হঠাৎ আকাশ ফুঁড়ে নেমে আসে একটি রুশ ড্রোন এবং সজোরে আঘাত হানে জাহাজটিতে। নিমেষেই সেখান থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।
গত জুলাইয়ের শেষভাগে সরাসরি দেখা এই দৃশ্যটি মূলত বেসামরিক কার্গো জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো রাশিয়ার এক নতুন ও আক্রমণাত্মক অভিযানেরই অংশ। বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ইউক্রেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ওডেসা বন্দর ঘিরে এই ধারাবাহিক হামলার কারণে সমুদ্রপথে প্রায় সমস্ত পণ্য পরিবহন এখন থমকে গেছে।
গম, ভুট্টা ও বার্লির মতো বিশ্বখ্যাত শস্য উৎপাদক দেশ ইউক্রেনে এখন নতুন ফসল তোলার মৌসুম শুরু হয়েছে। ঠিক এই সময়েই রাশিয়ার এই হামলা আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে চরম অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলার মুখে ফেলে দিতে পারে। এর আগে ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর প্রথম মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছিল রাশিয়া। সে সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায় এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে।
ইউক্রেনীয় পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট দিমিত্রো বারিনোভ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, .রাশিয়া মূলত এই বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে শিকার করছে। বেসামরিক জাহাজের ওপর এটা রীতিমতো পেশাদার শিকারীর মতো হামলা।"
কৃষ্ণসাগর ও পার্শ্ববর্তী আজভ সাগরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ে এটি এক নতুন ও মারাত্মক অধ্যায়। দূরপাল্লার লক্ষ্যে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম আধুনিক অস্ত্রের কারণে—ধীরগতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন হামলাকারীদের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, গত জুন ও জুলাই মাসেই রুশ বাহিনী অন্তত ৫০টি কার্গো জাহাজে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জ্বালানি ট্যাংকার ও কার্গো জাহাজগুলোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আসছে। আজভ সাগরে রাশিয়ার নদী-সমুদ্রগামী তেল ট্যাংকারের বহর ধ্বংস করা এবং রুশ পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোর ওপর কিয়েভের ক্রমাগত হামলার প্রতিক্রিয়ায়—মস্কো সমুদ্রপথে এমন আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিয়েভের এসব হামলার ফলে রুশ-অধ্যুষিত ক্রিমিয়া এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন এবং জ্বালানি সংকটে ভুগছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, বুধবার শেষ রাতে কিয়েভ বাহিনী জেট-চালিত ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকবিহীন নৌযান (নেভাল ড্রোন) ব্যবহার করে, কৃষ্ণসাগরের অন্যতম প্রধান রুশ বন্দর নোভোরোসিস্কে একটি বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। এতে রুশ বাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জেটি এবং সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নোভোরোসিস্ক অন্তর্ভুক্ত থাকা ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্ড্রাতিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইউক্রেনীয় এই হামলায় ৮ বছরের এক শিশুসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শস্য রপ্তানির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রের মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দুটি প্রধান পানির পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো নগরীর পানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ক্রমবর্দ্ধমান এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি—মুক্তভাবে নৌচলাচলের স্বাধীনতা বা 'ফ্রিডম অব নেভিগেশন'-কে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
আধুনিক বিশ্ববাণিজ্যের চালিকাশক্তি সমুদ্রপথের এই অবাধ চলাচল। কিন্তু বিভিন্ন রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোর ড্রোন, জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাইন আক্রমণের কারণে এই ব্যবস্থাটি মারাত্মক চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটগুলোয় দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে ওডেসা বন্দর এবং তার আশপাশের আরও দুটি বন্দরে রাশিয়ার নৌ-অবরোধের ফলে কোটি কোটি টন শস্য আটকা পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। ইউক্রেনের প্রতি মাসের মোট ৩৫০ কোটি ডলার রপ্তানি আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে এই তিনটি বন্দর থেকে। দেশটির বাণিজ্যিক সংগঠন 'ইউক্রেনিয়ান এগ্রি কাউন্সিল' কৃষি খাতে দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাব্য ঢেউ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে সরকারের কাছে জরুরি ঋণ ও রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির আবেদন জানিয়েছে।
বর্তমান এই পরিস্থিতি ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় বন্দরের ওপর রুশ অবরোধের স্মৃতিই মনে করিয়ে দিচ্ছে। সে বছর জুলাইয়ে জাতিসংঘ এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় 'ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ' বা কৃষ্ণসাগর শস্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে আবার শস্য পরিবহন শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। তবে এক বছর পর চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য ততদিনে ইউক্রেন কৃষ্ণসাগরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে রুশ যুদ্ধজাহাজগুলোকে তাড়িয়ে দিয়ে—নিজস্ব প্রতিরক্ষায় শিপিং অব্যাহত রেখেছিল।
কিন্তু, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। হামলার শিকার এমন একটি জাহাজ ছিল 'গোল্ডেন লিও' নামের একটি বাল্ক ক্যারিয়ার (পণ্যবাহী জাহাজ)।
গোল্ডেন লিও-র ২৮ বছর বয়সী সেকেন্ড অফিসার ব্লিসন সেবাস্টিয়ানের বাড়ি ভারতের চেন্নাইয়ে। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র বিজয়ের স্বপ্ন দেখা ব্লিসন গত আট মাসে বহুবার ইউক্রেনে এসেছিলেন। তবে তিনি জানান, গত মাসে তাদের জাহাজটি যখন এখানে নোঙর করে, তখন রুশ হামলার তীব্রতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
জাহাজের নাবিকদল ওডেসার মূল বন্দর এড়িয়ে কাছের চোরনোমোর্স্ক বন্দরে নোঙর কওরে। কিন্তু সেখানেও নিস্তার মেলেনি। ব্লিসন সেবাস্টিয়ান জানান, পাশেই নোঙর করা আরেকটি জাহাজে ড্রোন হামলায় এক কর্মকর্তা ও একজন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। এরপর থেকে গোল্ডেন লিও-র নাবিকরা স্টিলের তৈরি সুরক্ষিত বাঙ্কারে রাত কাটাতেন।
১৯ জুলাই জাহাজটি শস্যবোঝাই শেষ করে বন্দর ত্যাগ করে। ব্লিসন বলেন, জাহাজটি যখন রওয়ানা হচ্ছিল, তিনি তীর ঘেঁষে বেশ কিছু পরিবারকে রোদমাখা শান্ত বিকেলে ঘুরে বেড়াতে দেখেছিলেন। জাহাজের তরুণ ও আতঙ্কিত নাবিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছিলেন, সব ঠিক হয়ে যাবে।
বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাহাজের সিরীয় ক্যাপ্টেন প্রার্থনা করার জন্য তাঁর কেবিনে যান, আর ব্লিসন নেভিগেশন ব্রিজে বসে বাইবেল পড়ছিলেন। বন্দর থেকে মাত্র চার মাইল দূরে পৌঁছাতেই জাহাজের এয়ার অ্যালার্ম বেজে ওঠে।
জাহাজটিকে নিরাপদে বন্দর পার করে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনীয় পাইলট ভোলোদিমির মিখাইলোভ সবাইকে নিয়ে দ্রুত নেভিগেশন ব্রিজ ছেড়ে নামতে বলেন, কারণ রুশ ড্রোন সাধারণত সরাসরি নেভিগেশন ডেককে নিশানা করে।
মিখাইলোভ ও ব্লিসন যখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছিলেন, ঠিক তখনই একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র এসে আছড়ে পড়ে জাহাজের খোলে।
বন্দরের কাছে বসে দেওয়া দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লিসন সেবাস্টিয়ান বলেন, "চারিদিকে যেন আগুনের বৃষ্টি শুরু হলো। মুহূর্তের জন্য মনে হলো, আমার জীবন এখানেই শেষ।"
বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় মিখাইলোভ ছিটকে ব্লিসনের গায়ে এসে পড়েন এবং দুজনেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। বিস্ফোরণের শব্দে কান তালা লেগে যাওয়া ব্লিসন মিখাইলোভকে ধরে ঝাঁকাতে থাকেন, কিন্তু তাঁর কোনো সাড়া ছিল না। ব্লিসনের কোলে মাথা রেখেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সেই ইউক্রেনীয় পাইলট।
ভাঙাচোরা ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া লোহালক্কড়ের ভেতর দিয়ে কোনোরকমে বেঁচে ফেরা ব্লিসন দেখেন, ক্যাপ্টেন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন এবং বোৎসোয়েন (জাহাজের ডেক প্রধান) সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে আছেন। ইঞ্জিনের ঘর থেকে তীব্র ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছিল। মুষ্টিমেয় কয়েকজন বেঁচে যাওয়া নাবিক একটি ছোট নৌকায় উঠে প্রাণ বাঁচান, যা আসলে পাইলট মিখাইলোভকে কাজ শেষে তীরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য জাহাজের সঙ্গে রাখা হয়েছিল।
পালিয়ে আসার সময় ব্লিসন ও তাঁর সহকর্মীরা দেখেন যে গোল্ডেন লিও জাহাজটি বিশাল এক "অগ্নিচুল্লির" মতো জ্বলছে। এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজের ৯ জন নাবিক এবং পাইলট মিখাইলোভ নিহত হন। হামলার এক সপ্তাহ পর জাহাজটি পুরোপুরি সাগরে ডুবে যায়।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের সামুদ্রিক ঝুঁকি বিশেষজ্ঞ এলিজাবেথ ব্র জানান, ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতে কৃষি ও অন্যান্য অ-সামরিক পণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের আক্রমণ 'জাতিসংঘের সামুদ্রিক আইন সংক্রান্ত সনদ' (আনক্লজ)-এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেন যেসব রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট তেল ট্যাংকার এবং কার্গো জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে সেগুলো মূলত রাশিয়ার তথাকথিত 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া বহরের অংশ, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এবং ক্রেমলিনের যুদ্ধের তহবিল জোগাতে জ্বালানি রপ্তানিতে ব্যবহৃত হয়।
পশ্চিমা দেশগুলো একাধিকবার এ ধরনের রুশ ছায়া বহরের জাহাজ জব্দ করেছে। গত বুধবারে প্রশান্ত মহাসাগরে একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শনকালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পশ্চিমাদের এই পদক্ষেপকে "জলদস্যুতা ও ডাকাতি" বলে অভিহিত করেছেন এবং হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "রাশিয়াও একইভাবে এর জবাব দেবে।"
ইউক্রেনীয় পেট্রোল বোট ডিভিশনের কমান্ডার সিনিয়র লেফটেন্যান্ট ওলেকসান্দর জানান, রুশ অপারেটররা প্রায়শই ইউক্রেনীয় উপকূল থেকে কয়েক মাইল দূরে আকাশে ড্রোন উড়িয়ে রাখে, যা মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ "খুঁজে নিয়ে আক্রমণ করে"। ইউক্রেনীয় সামরিক প্রোটোকল মেনে নিজের পুরো নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আরও জানান, প্রাথমিক হামলার পর উদ্ধারকারীদের ওপরও হামলা চালায় এসব ড্রোন।
গোল্ডেন লিও-তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যাওয়া ব্লিসন সেবাস্টিয়ান বিশ্বের অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সাগরে আটকে থাকা বহু নাবিকের মতোই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি আর কখনো সমুদ্রে যাবেন না।
তিনি বিষণ্ন কণ্ঠে বলেন, "জীবনের চেয়ে তো টাকা বড় হতে পারে না।"
