ন্যাটোর আদলে সামরিক জোট: সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা জোরদারে এক ঐতিহাসিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে তৈরি এই চুক্তির প্রধান শর্ত হলো—চুক্তিভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর আক্রমণ করা হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র এই তিন দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি মূলত একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করবে। এর ফলে সদস্য কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য থাকবে, যা অনেকটা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর 'আর্টিকেল ৫'-এর মতোই।
দেশ তিনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। এছাড়া এটি তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিককে আরও সুসংহত ও উন্নত করবে।
ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কায় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য মক্কাকে বেছে নেওয়ার পেছনে গভীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বের একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং তুরস্ক সামরিক প্রযুক্তিতে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র।
মূলত সৌদি আরব বর্তমানে বিভিন্ন দিক থেকে যে নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় এই চুক্তিটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়।
যৌথ বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তিন দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন এবং ইসলামি সংহতির ওপর ভিত্তি করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশগুলোর অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থ এবং দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতেই এই জোট গঠন করা হয়েছে।
